আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এ বছর দেশের সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিক্ষার মান ও মূল্যায়নে সমতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, একই দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে অভিন্ন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে মূল্যায়ন ব্যবস্থা আরও গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রীর মতে, দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে সমান মান বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একক মূল্যায়ন কাঠামো গড়ে তোলাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। এ কারণে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ধাপে ধাপে অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বর্ষা মৌসুমে সম্ভাব্য বন্যা বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা আয়োজন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকার আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। ঝড়, অতিবৃষ্টি বা বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে পরীক্ষা পরিচালনা করা হবে।
তিনি জানান, প্রশ্নপত্র নির্ধারিত সময়ের আগেই বিভিন্ন কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কোনো এলাকায় যোগাযোগ বা পরিবহন সমস্যার সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিকল্প নির্দেশনা অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা যেন কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হয়, সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর বিষয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, এটি হবে শিশুদের জন্য সহজ, আনন্দময় ও চাপমুক্ত একটি মূল্যায়ন ব্যবস্থা। ভর্তি পরীক্ষার জন্য কোনো কোচিং বা অতিরিক্ত প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে না।
শিক্ষার্থীদের আবাসিক এলাকার ভিত্তিতে নির্ধারিত ক্যাচমেন্ট এরিয়া এবং মূল্যায়নের ফলাফল সমন্বয় করে আসনসংখ্যা অনুযায়ী ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অতীতের বিভিন্ন অনিয়ম দূর করে আরও স্বচ্ছ ও শিশুবান্ধব ভর্তি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমে সংস্কৃতি ও সংগীত শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মীদের ক্লাস্টারভিত্তিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীত, নাটক ও সংস্কৃতিবিষয়ক বিভাগ চালু হওয়ায় ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত শিক্ষক পাওয়ার সুযোগও তৈরি হবে বলে মনে করছে সরকার।
অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যায়ক্রমে ‘ম্যাথ ল্যাব’ স্থাপন করা হবে। রাজধানীর সাঁতারকুলে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা আরও আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠবে।
সরকারের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের গণিতভীতি দূর করার পাশাপাশি স্মার্ট ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন