ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

খাদ্য নিরাপত্তায় বহুমুখী সুরক্ষাবলয়

দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যচাপ কমানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার আওতায় আনতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। উৎপাদন, সরবরাহ, মজুদ ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী খাদ্য নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের খাদ্যপ্রাপ্তি আরও সহজ হবে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫৫ লাখ নিম্ন আয়ের পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি খোলা বাজারে বিক্রয় (ওএমএস) কার্যক্রমের মাধ্যমে আরও প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ পরিবার ৩০ টাকা কেজি দরে চাল কেনার সুযোগ পাবে। সরকারের মতে, এই কর্মসূচি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করতে সাধারণ ভিজিএফ কার্যক্রমের জন্য ১ হাজার ২২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের সহায়তায় বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির জন্য ৬৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। পার্বত্য অঞ্চলের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্যও ৪৪৮ কোটি টাকার বিশেষ খাদ্য ও নগদ সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।

দেশীয় ও বৈশ্বিক যেকোনো সংকট মোকাবিলায় খাদ্য মজুদ সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বর্তমানে সরকারি খাদ্যশস্য ধারণক্ষমতা ২৩ লাখ ১৩ হাজার মেট্রিক টন হলেও আগামী অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ২৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন সাইলো ও আধুনিক খাদ্যগুদাম নির্মাণের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন করা হবে।

বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের আমদানিতে উৎসে কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কর হ্রাসের ফলে আমদানি ব্যয় কমবে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়বে, যা ভোক্তাদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে।

খাদ্য ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভরতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে ‘কৃষকের অ্যাপ’-এর মাধ্যমে দেশের সব উপজেলায় কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমও আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সরকার এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তার মতে, খাদ্য মজুদ বৃদ্ধি, বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, কৃষকদের সরাসরি সহায়তা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

সরকারের প্রত্যাশা, খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, বিতরণ এবং ভোক্তা পর্যায়ে সহায়তা—সব খাতে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি কার্যকর খাদ্য নিরাপত্তা বলয় গড়ে উঠবে। এর ফলে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট মোকাবিলায় দেশ আরও সক্ষম হয়ে উঠবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

২০২৬ বিশ্বকাপে খেলছেন মেসি, নিশ্চিত করলেন কোচ আয়ালা

1

গ্রিসের ক্রিট উপকূলে ৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্প

2

আজ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন

3

হোয়াইট হাউস অনুষ্ঠানে হামলার চাঞ্চল্যকর ছবি প্রকাশ করলেন ট্র

4

ইরানের সাথে ইতিবাচক আলোচনা চলছে : ট্রাম্প

5

মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রকল্পে স্পেসএক্সের ৪১৬ কোটি ডলারের চুক্

6

শিক্ষার্থীরা রিডিং না পারলে শিক্ষকদের বেতন বন্ধের সিদ্ধান্ত

7

১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির উদ্বেগ

8

সরকারি সফরে চীন গেলেন সেনাপ্রধান

9

বিশ্বকাপ ফাইনাল মাতাতে নতুন লুকে শাকিরার প্রস্তুতি

10

টাঙ্গাইলে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

11

প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন এই তারকারাও

12

ড্রোন অনুপ্রবেশ ইস্যুতে লাতভিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

13

বৃষ্টিতে ভেস্তে গেল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় টি-টোয়েন্ট

14

রুমিন ফারহানা-এর এনসিপিতে যোগদানের গুঞ্জন

15

প্রাক্তনকে ভুলতে কতদিন সময় লাগে? যা বলছে বিজ্ঞান

16

জুনে হবে ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন

17

আফগান-পাক উত্তেজনায় ব্রিটিশ মন্তব্য ঘিরে কূটনৈতিক বিরোধ

18

হিউম্যানয়েড রোবটের জন্য ডিজিটাল আইডি চালু করছে চীন

19

ব্রাজিলের দুর্বলতা স্পষ্ট, আগের মতো ভয়ংকর নেই

20