ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

জ্বালানি সংকট ঘিরে অনলাইন প্রতারণা

ছবি : সংগৃহীত

দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদের দাবি থাকলেও বাস্তবে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে কালোবাজারি চক্র, যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে তেল বিক্রি করছে। একই সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল প্রতারণা, যেখানে অনলাইনে ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন পেজ খুলে প্রতারকরা অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল সরবরাহের প্রলোভন দিচ্ছে। এসব পেজে বাজারমূল্যের কাছাকাছি দামে তেল দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে ক্রেতাদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেওয়ার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে। মোটরসাইকেল চালকসহ জরুরি প্রয়োজনে থাকা অনেকেই দ্রুত জ্বালানি পাওয়ার আশায় এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন।

একাধিক ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতায় একই চিত্র উঠে এসেছে। কেউ ২০০ টাকা, কেউ আবার ২৫০ টাকার মতো ‘বুকিং চার্জ’ দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রতারকরা নিজেদের অবস্থান ভিন্ন ভিন্ন স্থানে দেখিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে এবং সরাসরি সাক্ষাৎ বা দোকানের ঠিকানা দিতে এড়িয়ে যায়। অনুসন্ধানে এসব পেজ বা তথাকথিত বিক্রেতার কোনো বাস্তব অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ‘হোম ডেলিভারি’ সুবিধার নামে আরও কিছু পেজ সক্রিয় রয়েছে, যেখানে আকর্ষণীয় অফার, ভুয়া রিভিউ এবং মানি-ব্যাক গ্যারান্টির কথা বলে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির চেষ্টা করা হয়। অর্ডারের সময় গ্রাহকের নাম, মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা নেওয়ার পর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অগ্রিম টাকা চাওয়া হয়। টাকা পাঠানোর পর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্রেতারা আর কোনো সাড়া পান না।

এদিকে খোলাবাজারেও জ্বালানি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অনেক জায়গায় অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। তবে পেট্রোল পাম্প মালিকরা দাবি করছেন, তারা সরকারি নির্দেশনা মেনেই স্বাভাবিকভাবে তেল সরবরাহ করছেন এবং অতিরিক্ত মজুদ বা অনিয়ম ঠেকাতে নজরদারি চলছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নজরদারি জোরদারের দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ মজুদ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেল সরবরাহ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিশেষ মনিটরিং টিম কাজ করছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, অনলাইনে তেল বিক্রির বেশিরভাগ বিজ্ঞাপনই ভুয়া। তারা জনগণকে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে অগ্রিম টাকা চাওয়া হলে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে। প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত থানায় অভিযোগ বা জরুরি সেবা নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানি সংকটের মতো সংবেদনশীল সময়ে ডিজিটাল প্রতারণা রোধে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে অনলাইনে লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন না করলে এ ধরনের প্রতারণা আরও বাড়তে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানে প্রবেশ করা উচিত হয়নি, স্বীকার করলেন ট্রাম্প

1

আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষা

2

ইসরায়েলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত

3

জ্বালানি সংকট ঘিরে অনলাইন প্রতারণা

4

২৯ কার্যদিবসে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির ফাঁসির আদেশ

5

পৌরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সুজিত বসু

6

হাসিনাকে ফেরাতে রাতের আঁধারে যুবলীগের শপথ গ্রহণ

7

ডিপি না থাকলেও দেখা যাবে ছবি, হোয়াটসঅ্যাপে নতুন ফিচার

8

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ব্যাখ্যা দিলেন পরিবহনমন্ত্রী

9

বিশ্ব রাজনীতিতে চীন-রাশিয়া সম্পর্ক স্থিতিশীলতার প্রতীক : পুত

10

ঈদে ‘শিরোনাম’ দিয়ে বড়পর্দায় ওমর সানী

11

জামালপুরে কারাবন্দি আ.লীগ নেতা জিয়াউল হকের মৃত্যু

12

লিবিয়ায় নৌকা থেকে ৪০৪ অভিবাসী উদ্ধার

13

ভারত মহাসাগরই ভবিষ্যৎ যুদ্ধের কেন্দ্র

14

মোদির বেঙ্গালুরু সভাস্থলের কাছে বিস্ফোরক উদ্ধার

15

হজ পালনে গিয়ে এ পর্যন্ত ১৫ বাংলাদেশির মৃত্যু

16

তেল আছে শুধু সংসদে, বাংলাদেশে নাই: জামায়াতের আমির

17

বৈদেশিক বাজারে ভারতীয় রুপির রেকর্ড দরপতন

18

বিচার দূরে, দায় খোঁজাই শুরু হয়নি

19

চীন-রাশিয়া সম্পর্ক ‘আরও মূল্যবান’

20