ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ চমকের ধারাবাহিকতা বজায় রাখল সৌদি আরব। শক্তিশালী উরুগুয়ের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করে জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। তবে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ১-১ সমতায় ম্যাচ শেষ করতে হয়েছে তাদের।
মঙ্গলবার ভোরে ‘এইচ’ গ্রুপের ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি গার্ডেন্সের হার্ড রক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় দুই দল। ম্যাচজুড়ে রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণের কৌশল নিয়ে মাঠে নামে সৌদি আরব। অন্যদিকে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছিল না উরুগুয়ে।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচে এগিয়ে যায় সৌদি আরব। ৪১ মিনিটে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে প্রথমে হাসান আল তামবাকতির হেড উরুগুয়ের গোলরক্ষকের হাত ফসকে বেরিয়ে আসে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে Abdulelah Al-Amri কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
গোল হজমের পর কিছুটা চাপে পড়ে উরুগুয়ে। বিরতির পর তারা আক্রমণের গতি বাড়ালেও সৌদি আরবের সংগঠিত রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় বারবার হতাশ হতে হয়। অভিজ্ঞ Luis Suarez ও Darwin Nunez-দের নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণ গড়ে তুললেও গোলের দেখা মিলছিল না।
অবশেষে ম্যাচের ৮০ মিনিটে স্বস্তির গোল পায় উরুগুয়ে। দারুণ এক দলগত আক্রমণ থেকে বল পেয়ে শক্তিশালী শটে জাল খুঁজে নেন Maximiliano Araujo। তার গোলে ম্যাচে সমতা ফিরে আসে এবং হারের শঙ্কা কাটে উরুগুয়ের।
শেষ ১০ মিনিটে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। তবে সৌদি আরবও নিজেদের রক্ষণভাগকে সুসংগঠিত রেখে প্রতিপক্ষের সব প্রচেষ্টা প্রতিহত করে। ফলে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ।
এই ড্রয়ের মাধ্যমে সৌদি আরব আবারও দেখিয়ে দিল যে বিশ্বকাপের মঞ্চে তারা বড় দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে যে চমক সৃষ্টি করেছিল, ২০২৬ আসরেও সেই লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিল তারা।
অন্যদিকে উরুগুয়ের জন্য এটি কিছুটা হতাশার ফল হলেও শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার কারণে অন্তত একটি পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ‘এইচ’ গ্রুপের পরবর্তী ম্যাচগুলো এখন দুই দলের জন্যই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য করুন