নেত্রকোনা সদর উপজেলায় এক কিশোরীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে নেত্রকোণা মডেল থানায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে রিপন মিয়াকে।
এর আগে, নেত্রকোণা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে এক কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়রা তাকে আটক করলে ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই সালিশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সালিশে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে আলোচনা শেষে তাকে কিশোরীর ভবিষ্যৎ ও বিয়ের খরচ বাবদ ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা বসতভিটার জায়গা বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পাশাপাশি সাত দিনের মধ্যে গ্রাম ছাড়ার নির্দেশও দেয়া হয়।
সালিশে উপস্থিত ছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাতব্বর দাবি করেন, কিশোরীর সঙ্গে রিপনের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় এবং তিনি তা স্বীকার করায় গ্রামবাসীর সম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তবে এটি কোনো আইনি শাস্তি নয়, বরং সামাজিকভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক নারীকে নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। ভুক্তভোগী পরিবার দরিদ্র হওয়ায় তারা প্রথমে আইনের আশ্রয় না নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার চেয়েছিল।
অন্যদিকে, রিপন মিয়ার স্ত্রী সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, একটি গাছের নিচে মেয়েটির সঙ্গে অল্প সময় কথা বলাকে কেন্দ্র করে তাকে অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, ডাক্তারি পরীক্ষা ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।
ওই কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার রাত আটটার দিকে তাদের বাড়িতে যান রিপন। তখন ওই স্কুলছাত্রী বাড়ির উঠানে রান্না করছিল। তার বাবা স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকানে ও মা বাইরে কাজে ছিলেন। এ সুযোগে ওই ছাত্রীকে জোর করে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করেন রিপন। পরে মেয়েটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে রিপন পালিয়ে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, দায়ের করা ধর্ষণ মামলার তদন্তের পাশাপাশি ভাইরাল হওয়া সালিশ বৈঠকের ঘটনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে নেত্রকোণা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে মেয়ের বাবা বাদী হয়ে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় একমাত্র আসামি রিপন মিয়া। এছাড়া ওই সালিশে কারা কারা ছিল, তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। সালিশে কী আলোচনা হয়েছে, তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, পেশায় কাঠমিস্ত্রি রিপন মিয়া ২০১৬ সাল থেকে ফেসবুকে ভিডিও তৈরি করছেন। ‘হাই আই এম রিপন ভিডিও’ ও ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’- এসব সংলাপের ভিডিও দিয়ে তিনি পরিচিতি পান।