বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের মহত্বের প্রমাণ দিলেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে জয় উপহার দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় রেকর্ড স্পর্শ করেছেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তিন গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬, যা তাকে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে।
বিশ্বকাপের নতুন অভিযানে নামার আগেই একাধিক রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার মাধ্যমে তিনি বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার বিরল কীর্তি গড়েন। সেই বিশেষ ম্যাচটিকেই আরও স্মরণীয় করে তুলেছেন নিজের অসাধারণ পারফরম্যান্সে।
ম্যাচের ১৭তম মিনিটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন মেসি। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তার বাঁ-পায়ের শক্তিশালী শট গোলরক্ষক লুকা জিদান স্পর্শ করলেও ঠেকাতে পারেননি। সেই গোলে প্রথমার্ধ শেষ করে লিড নিয়ে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধেও থামেননি আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ৬০তম মিনিটে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট গোলরক্ষকের কাছ থেকে ফিরে এলে সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে ১৫ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করে ব্রাজিল কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওর রেকর্ডে পৌঁছে যান মেসি।
এরপর ৭৬তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত এক শটে পূর্ণ করেন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা ১৬-তে পৌঁছে যায় এবং মিরোস্লাভ ক্লোসার দীর্ঘদিনের রেকর্ড স্পর্শ করেন। মাত্র ২৭টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেই এই অর্জনে পৌঁছানো মেসির ধারাবাহিকতারই প্রমাণ।
মেসির হ্যাটট্রিকের দিনে আর্জেন্টিনা সহজ জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। আর ফুটবল বিশ্বের জন্য এটি ছিল আরেকটি ঐতিহাসিক রাত, যেখানে রেকর্ড, সাফল্য এবং অসাধারণ নৈপুণ্য—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন লিওনেল মেসি।
মন্তব্য করুন