লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের শান্তি চুক্তি বা সমঝোতায় পৌঁছাবে না ইরান। দেশটির মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধ করার উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে লেবাননের পরিস্থিতি এবং সেখানে ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি।
সোমবার পাকিস্তানের সংবাদপত্র Dawn বার্তা সংস্থা Agence France-Presse-এর বরাত দিয়ে জানায়, তেহরানে অনুষ্ঠিত এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Esmail Baghaei এ অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনার যেকোনো উদ্যোগের জন্য প্রথমে লেবাননে হামলা বন্ধ হওয়া জরুরি।
ইরান একই সঙ্গে অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বারবার অবস্থান পরিবর্তন এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনা কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি পাচ্ছে না। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটন একদিকে আলোচনার টেবিলে নতুন নতুন শর্ত আরোপ করছে, অন্যদিকে গণমাধ্যমে ভিন্ন ধরনের বার্তা দিচ্ছে, যা আলোচনার পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে।
বাঘাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রচেষ্টা চললেও মার্কিন প্রশাসনের সিদ্ধান্তহীনতা এবং ঘনঘন নীতিগত পরিবর্তনের কারণে সেই প্রক্রিয়া বারবার স্থবির হয়ে পড়ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত একটি স্পষ্ট ও চূড়ান্ত অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচির কারিগরি বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা চলছে না। বরং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ করা এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়টিই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
সংবাদ সম্মেলনে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলোর পুনর্গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়। বাঘাই জানান, প্রাথমিক সমঝোতার আওতায় থাকা ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো গেলে আগামী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত কাঠামো চূড়ান্ত করা সম্ভব হতে পারে।
তবে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইরান জানিয়েছে, তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, ইরান কোনো অতিরিক্ত সুবিধা চাইছে না; বরং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশে আটকে থাকা ইরানি জনগণের নিজস্ব অর্থ ফেরত পাওয়াই তাদের অন্যতম প্রধান দাবি।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী নীতি এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো পারস্পরিক অবিশ্বাসকে আরও গভীর করেছে। তারপরও ইরান তার মূল লক্ষ্য—অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধ এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা—থেকে সরে আসবে না বলেও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছে।
মন্তব্য করুন