বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। তার অভিযোগ, এই সময়ে পাশের হার বাড়ানোর প্রবণতা থাকলেও শিক্ষার প্রকৃত মান ক্রমেই কমে গেছে।
শনিবার সকালে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে এইচএসসি ও ডিগ্রি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দাবি করেন, অতীতে শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে বিদেশে বাংলাদেশের সার্টিফিকেটের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তার মতে, “ফেল” শব্দটি কার্যত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ফলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পাসের হার কিছুটা কমলেও সেটি শিক্ষার প্রকৃত মান নির্ধারণে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু সার্টিফিকেট অর্জন করাই প্রকৃত শিক্ষা নয়; বরং এমন শিক্ষা অর্জন করতে হবে যা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগে এবং সমাজকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকলেও তাঁদের জ্ঞান ও সৃষ্টিশীলতা আজও বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, নারীদের শুধু পরিবার নয়, ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে কলেজটি সরকারি করার দাবি জানানো হয় শিক্ষার্থী ও কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। এতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।