ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পেনশন স্কিমে নতুন দিকনির্দেশনা দিলেন অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার ও ভবিষ্যৎ আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে বড় ধরনের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন সুবিধা এবং আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম’ সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটি থেকে অন্তত একজন সদস্যকে এই স্কিমের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বর্তমান অগ্রগতি, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

স্কিমটিকে আরও জনপ্রিয় ও জনবান্ধব করতে সরকার নতুন কিছু উদ্যোগ নিয়েও ভাবছে। এর মধ্যে রয়েছে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা এবং ‘প্রগতি’ স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা। অর্থমন্ত্রী এসব প্রস্তাবের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।

সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ–এর নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান স্কিমটির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন। এ সময় অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—এই চারটি স্কিমে গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নাগরিক নিবন্ধন করেছেন। পেনশন তহবিলে জমা হয়েছে প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। মুনাফাসহ মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকায়।

তথ্য বলছে, সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালুর প্রথম এক বছরে মানুষের আগ্রহ ছিল বেশ উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪০১ জন এতে যুক্ত হন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর স্কিমটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে নতুন নিবন্ধনের ওপর।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম বছরে যেখানে প্রায় পৌনে চার লাখ মানুষ এই স্কিমে যুক্ত হয়েছিল, সেখানে পরবর্তী প্রায় ২০ মাসে নতুন নিবন্ধন বেড়েছে মাত্র কয়েক হাজার। ফলে জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় সর্বজনীন পেনশন স্কিম। ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী সব বাংলাদেশি নাগরিক এতে অংশ নিতে পারেন। বিশেষ বিবেচনায় ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্যও যুক্ত হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারের আশা, ভবিষ্যতে এই স্কিম দেশের মানুষের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভারতে হাসপাতালের দেয়াল ধসে শিশুসহ নিহত ৭

1

তাইওয়ানে চীনের গুপ্তচরবৃত্তি

2

দিনভর নানা গুঞ্জন, যে কারণে বিভিন্ন দূতাবাস থেকে সরানো হয়েছ

3

মিনায় হজযাত্রীদের জন্য তাঁবু তৈরির কাজ শুরু

4

লুকিয়ে আমিরাতে গিয়েছিলেন নেতানিয়াহু

5

গরম কমবে কবে জানালো আবহাওয়া অফিস

6

স্পেসএক্সের আইপিওতে শেয়ার মূল্য ১৩৫ ডলার

7

গাবতলীতে কোরবানির হাটে পর্যাপ্ত পশুর সরবরাহ

8

রামিসা হত্যাকাণ্ড স্বামী জাকিরকে নিয়ে ভয়ংকর তথ্য দিলেন স্বপ্

9

৭ নভেম্বর ফের সরকারি ছুটি

10

অব্যবহৃত ৬ শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

11

সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই

12

কাজিনদের বিয়ে কতটা নিরাপদ

13

বৃষ্টিতে ভেস্তে গেল বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় টি-টোয়েন্ট

14

ইসরায়েলের ৩৯ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি হিজবুল্লাহর

15

তিস্তাপাড়ে ভালবাসার বাজারে এক টাকায় ঈদের বাজার

16

হরমুজ প্রণালীতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত, ট্রাম্পকে ধন্যবাদ

17

মাদারীপুরে একই পরিবারের তিন জনের মরদেহ উদ্ধার

18

বাবা-মায়ের ভরণপোষণ নিয়ে যা আছে আইনে

19

‘তুসকা’ জাহাজের ১৫ নাবিক দেশে ফিরলেন

20