ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে ব্রাজিল ৩-০ গোলের জয় পেলেও ম্যাচের প্রকৃত চিত্র শুধুমাত্র স্কোরলাইন দিয়ে বোঝা কঠিন। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে হাইতি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছে এবং পরিসংখ্যানও সেই কথাই বলছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ম্যাথেউস কুনহার জোড়া গোল এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের এক গোলে তিন গোলের লিড নেয় ব্রাজিল। তবে পিছিয়ে পড়ার পরও হাইতি আত্মসমর্পণ করেনি। দ্বিতীয়ার্ধে দলটি আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে এবং একাধিকবার ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখেছে।
ম্যাচের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শট নেওয়ার ক্ষেত্রে দুই দলের মধ্যে পার্থক্য খুবই কম ছিল। পুরো ম্যাচে ব্রাজিল ৯টি শট নিলেও হাইতির শট ছিল ৮টি। লক্ষ্যভেদী শটেও ব্যবধান ছিল সামান্য। ব্রাজিলের ৫টি অন-টার্গেট শটের বিপরীতে হাইতির ছিল ৪টি।
বল দখলের লড়াইয়েও হাইতি পুরোপুরি পিছিয়ে ছিল না। ব্রাজিল ৫৭ শতাংশ সময় বল নিয়ন্ত্রণে রাখলেও হাইতির দখল ছিল ৪৩ শতাংশ। কর্নারের সংখ্যাও ছিল সমান, দুই দলই পেয়েছে চারটি করে কর্নার। এসব পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, মাঠের লড়াই স্কোরলাইনের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল।
বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং মাঝমাঠ থেকে বল এগিয়ে নেওয়ার কৌশল হাইতির সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠে। সেবাস্টিয়ান মিগনের শিষ্যরা একের পর এক আক্রমণ গড়ে ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে।
ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে রুবেন প্রভিডেন্সের শক্তিশালী শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। সেই সুযোগটি কাজে লাগলে ম্যাচের চিত্র কিছুটা হলেও বদলে যেতে পারত। এছাড়া জোসু ক্যাসিমি ইনজুরির আশঙ্কা কাটিয়ে মাঠে ফিরে ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে বেশ কয়েকবার সমস্যায় ফেলেন।
মাঝমাঠে ড্যানলি জিন জ্যাকুয়েস ও জিন-রিকনার বেলগার্ডের শারীরিক ফুটবল ব্রুনো গিমারায়েস ও ক্যাসেমিরোর মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দেরও কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে। অন্যদিকে ব্রাজিলের গোলরক্ষক আলিসন বেকারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ না থাকলে হাইতি অন্তত একটি বা দুটি গোল পেতেই পারত।
ফলাফলের বিচারে জয় ব্রাজিলের হলেও পারফরম্যান্সের দিক থেকে হাইতি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাদের সাহসী ও আক্রমণাত্মক ফুটবল ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।
মন্তব্য করুন