বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিল যুক্তরাষ্ট্র। ‘ডি’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত সূচনা করেছে অন্যতম স্বাগতিক দেশটি। লস অ্যাঞ্জেলসের গ্যালারিভর্তি দর্শকদের সামনে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে মার্কিনরা, যার ফল হিসেবে এসেছে একতরফা জয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে যুক্তরাষ্ট্র। এর পুরস্কারও পেয়ে যায় দ্রুত। খেলার সাড়ে ৬ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচের তৈরি করা আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ডি-বক্সের ভেতরে ম্যাককেনির উদ্দেশ্যে বাড়ানো বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার ড্যামিয়েন বোবাদিলা। আত্মঘাতী সেই গোলেই ম্যাচে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।
২৮তম মিনিটে ফোলারিন বালোগুন বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে হতাশ না হয়ে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। মাত্র তিন মিনিট পরই পুলিসিচের নিখুঁত পাস থেকে বালোগুন গোল করে দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। প্রথমার্ধের শেষদিকে আবারও জ্বলে ওঠেন এই ফরোয়ার্ড। মালিক তিলম্যানের অ্যাসিস্ট থেকে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করে বিরতির আগেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
প্রথমার্ধে প্যারাগুয়ের অবস্থা ছিল হতাশাজনক। পুরো ৪৫ মিনিটে তারা যুক্তরাষ্ট্রের গোলমুখে উল্লেখযোগ্য কোনো হুমকি তৈরি করতে পারেনি। এমনকি অন টার্গেটে একটি শটও নিতে ব্যর্থ হয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
বিরতির পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে প্যারাগুয়ে। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে ৭৩তম মিনিটে মাউরিসিওর গোলে ব্যবধান ৩-১ করে তারা। এতে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা কিছুটা জাগলেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের আর কোনো সুযোগ দেয়নি।
বরং নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ে জিওভান্নি রেইনা গোল করে জয়ের ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন। তার গোলেই ৪-১ ব্যবধানে নিশ্চিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের দাপুটে জয়।
এই জয়ের মাধ্যমে ‘ডি’ গ্রুপে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করল স্বাগতিকরা। প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে প্যারাগুয়ে।