বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবল সংস্থার প্রতিনিধিরা যখন উত্তর আমেরিকায় জড়ো হচ্ছেন, তখনও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার অপেক্ষায় রয়েছেন ফিলিস্তিন ফুটবল সংস্থার সভাপতি জিবরিল রাজুব। বর্তমানে তিনি মেক্সিকো সিটিতে অবস্থান করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করছেন বলে জানিয়েছেন।
বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হলেও এখনও ভিসা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন রাজুব। তিনি বলেন, বিশ্ব ফুটবলের এই বৈশ্বিক উৎসবে অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে কোনো দেশের প্রতিনিধিদের বঞ্চিত করা ন্যায়সঙ্গত নয়। তার মতে, ফুটবল বিশ্বের মানুষকে একত্রিত করার মাধ্যম হলেও ভিসা জটিলতা সেই চেতনাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী পর্বে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন রাজুব। তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় তিনি এখনো মূল আয়োজক দেশগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেননি। শুধু তিনি নন, আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিও একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ফিলিস্তিন জাতীয় দল এবারের বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে না পারলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলের রীতি অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের ফুটবল সংস্থার প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে এই আয়োজনকে বৈশ্বিক ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে আসছে।
গত বছর সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছিলেন, কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে আয়োজিত বিশ্বকাপে বিশ্বের সবাইকে স্বাগত জানানো হবে। তবে বাস্তবে কিছু প্রতিনিধি ও কর্মকর্তার ভিসা জটিলতা সেই প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি সোমালিয়ার একজন রেফারি এবং ইরাক দলের সঙ্গে যুক্ত এক আলোকচিত্রীকেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ভিসা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো দেশের অভিবাসন নীতির ওপর আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার নিয়ন্ত্রণ নেই।
রাজুবের ভিসা আবেদনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে গত বছর ফিলিস্তিনি পাসপোর্টধারীদের জন্য কিছু নতুন বিধিনিষেধ চালু করা হয়, যার আওতায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও পড়েছেন।
এদিকে ফিলিস্তিন ফুটবল সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে আসছে। তাদের দাবি, অধিকৃত পশ্চিম তীরের বসতিগুলোর ক্লাবগুলোকে ইসরায়েলের জাতীয় লিগে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে নিয়ম লঙ্ঘন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিনি খেলোয়াড়দের চলাচলে বাধা এবং ক্রীড়া কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে।
ফিলিস্তিন ফুটবল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় চলমান সংঘাতের কারণে ক্রীড়া অবকাঠামোর প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া শত শত ক্রীড়াবিদ ও খেলোয়াড় প্রাণ হারিয়েছেন বলে সংস্থাটির দাবি।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক এক অনুষ্ঠানে ইসরায়েলি ফুটবল সংস্থার প্রধানের সঙ্গে করমর্দন করতেও অস্বীকৃতি জানান রাজুব। তার মতে, প্রতীকী সৌজন্য বিনিময়ের মাধ্যমে বাস্তব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; বরং মাঠের বাস্তবতা ও মানবিক সংকটের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন