ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

গাজার শরণার্থী শিবিরগুলোতে চর্মরোগের দ্রুত বিস্তার

সংগৃহীত

গাজা উপত্যকার শরণার্থী শিবিরগুলোতে চর্মরোগের দ্রুত বিস্তার এক গভীর জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ঘনবসতি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে।

গাজা সিটি থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, জাতিসংঘ এই পরিস্থিতিকে নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ঘিঞ্জি শিবিরগুলোতে বসবাসরত মানুষের মধ্যে খুজলি (স্ক্যাবিস), জলবসন্তসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সংক্রমণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তায় কাজ করা জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ (UNRWA) জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে চর্মরোগে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ভিড়, দুর্বল পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতার অভাব এই রোগ ছড়ানোর প্রধান কারণ। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা।

আসন্ন গ্রীষ্মকে সামনে রেখে স্থানীয় পরিবার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ২০২৪ সালের ভয়াবহ পরিস্থিতির স্মৃতি এখনও তাজা, যখন প্রায় দেড় লাখ মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছিল। চলমান সংঘাত ও অবরোধের কারণে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি এখনো কাটেনি।

শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত অনেকেই চরম দুর্দশার কথা তুলে ধরছেন। অতিরিক্ত ভিড়, আবর্জনার স্তূপ এবং পোকামাকড়ের মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হওয়ায় তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়ছে। ওষুধের অভাবে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা করার চেষ্টা করছে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে চর্মরোগে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জানুয়ারিতে যেখানে প্রায় তিন হাজার মানুষ আক্রান্ত ছিল, মার্চে সেই সংখ্যা প্রায় দশ হাজারে পৌঁছেছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী, কীটনাশক এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের আহ্বান জানানো হয়েছে। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসসহ বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা সীমিত সম্পদ নিয়ে শিবির জীবাণুমুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা অত্যন্ত অপ্রতুল।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘনবসতি এবং ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবার অভাবে চর্মরোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং এটি নিয়ন্ত্রণে আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসা, পুষ্টি এবং নিরাপদ পরিবেশের অভাবে গাজার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দিন দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল

1

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি ৭৭ জন

2

গ্যাসচালিত যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া নিলে কঠোর ব্যবস্থা: সড়কমন্

3

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন ২০২৬-২৭: দু’দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শু

4

গ্রেফতারের অতীত ঘিরে নতুন বিতর্কে কাশ প্যাটেল

5

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের সমাপ্তি

6

টাঙ্গাইলে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাত নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

7

২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে ৪ জনের মৃত্যু

8

মেঘনায় ঝড়ের কবলে ট্রলারডুবি নিখোঁজ ৩

9

ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় এগোচ্ছে ইউরো

10

২ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা

11

নতুন ভিসিকে বাধা, ডুয়েটে ব্লকেড

12

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আমাদের তারুণ্য

13

আর্জেন্টিনার ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দল প্রস্তুত

14

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই নেওয়া হলো অভিনেত্রী কারিনা কায

15

ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

16

হোয়াইট হাউসের প্রতি ‘মোহ’ ছিল বন্দুকধারীর: ট্রাম্প

17

ধেয়ে আসছে শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’

18

রবিবার থেকে শুরু ডিসি সম্মেলন

19

সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হামলার হুমকি ছাত্রদল নেতার

20