বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখলের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে আর্জেন্টিনার সামনে। হন্ডুরাসের বিপক্ষে আসন্ন আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে জয় পেলেই এক নম্বরে উঠে যাবে লিওনেল মেসির দল। তবে এই সম্ভাব্য অর্জনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এমন একটি পরিসংখ্যান, যা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দুই দল স্পেন ও ফ্রান্স প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি। আইভরি কোস্টের কাছে ২-১ গোলে পরাজিত হয়েছে ফ্রান্স, অন্যদিকে ইরাকের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে স্পেন। এই ফলাফলের কারণে দুই দলেরই রেটিং পয়েন্ট কমেছে এবং আর্জেন্টিনার জন্য শীর্ষে ওঠার পথ আরও সহজ হয়েছে।
বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, হন্ডুরাসকে হারাতে পারলে আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত ১.৩ রেটিং পয়েন্ট অর্জন করবে। এতে তাদের মোট পয়েন্ট দাঁড়াবে ১৮৭৬.১১, যা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট হবে।
তবে এই সম্ভাব্য সাফল্যের আড়ালে রয়েছে একটি অস্বস্তিকর ইতিহাস। ১৯৯২ সালে ফিফা র্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্বকাপে র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল শিরোপা জিততে পারেনি। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শীর্ষ দলগুলো টুর্নামেন্টে প্রত্যাশার তুলনায় হতাশাজনক ফল করেছে।
১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে এক নম্বরে থাকা জার্মানি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয়। ১৯৯৮ সালে শীর্ষে থাকা ব্রাজিল ফাইনালে উঠলেও স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে হেরে শিরোপা হারায়। ২০০২ বিশ্বকাপে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ফ্রান্স গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়ে বড় ধাক্কা খায়।
পরবর্তী আসরগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপে যথাক্রমে ব্রাজিল ও স্পেন শীর্ষ র্যাঙ্কধারী দল হয়েও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। ২০১৪ সালে স্পেন এবং ২০১৮ সালে জার্মানি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়ে ফুটবলবিশ্বকে বিস্মিত করেছিল।
সবশেষ ২০২২ বিশ্বকাপেও র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিল ব্রাজিল। কিন্তু তারা কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নেয়। অন্যদিকে শিরোপা জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা, যারা তখন শীর্ষ র্যাঙ্কধারী ছিল না।
এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা যদি বিশ্বকাপের আগে এক নম্বরে উঠে যায়, তাহলে তাদের সামনে থাকবে ইতিহাস বদলের সুযোগ। একই সঙ্গে থাকবে দীর্ঘদিনের একটি পরিসংখ্যানগত ‘অভিশাপ’ ভাঙার চ্যালেঞ্জও।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, র্যাঙ্কিং কোনো দলের সামগ্রিক শক্তির ইঙ্গিত দিলেও বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে সাফল্য নির্ভর করে ম্যাচের পারফরম্যান্স, মানসিক দৃঢ়তা, কৌশল এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতার ওপর। ফলে শীর্ষস্থান অর্জন যেমন আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, তেমনি বাড়িয়ে দেবে প্রত্যাশার চাপও।
এখন দেখার বিষয়, হন্ডুরাসের বিপক্ষে জয় পেয়ে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে উঠতে পারে কি না আর্জেন্টিনা, আর যদি পারে, তবে বিশ্বকাপে সেই অবস্থান ধরে রেখে ইতিহাসের ধারা বদলাতে সক্ষম হয় কি না।
মন্তব্য করুন