বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুতেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আলজেরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে লিওনেল মেসির অসাধারণ হ্যাটট্রিকে ৩-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা। অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের নৈপুণ্যে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
ম্যাচের ১৭তম মিনিটে প্রথম গোল করেন মেসি। রদ্রিগো দে পলের কাছ থেকে বল পেয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শট আলজেরিয়ার গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়। সেই গোলেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা এবং প্রথমার্ধ শেষ করে লিড নিয়েই।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ৬০তম মিনিটে গোলরক্ষকের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মেসি। এরপর ৭৬তম মিনিটে নিকো গঞ্জালেসের পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। তার তৃতীয় গোলের পরই ম্যাচ কার্যত আর্জেন্টিনার নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের স্বস্তিদায়ক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দলটি।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে উন্নীত করেছেন মেসি। ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে নাম লিখিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আরও একটি ঐতিহাসিক অর্জন যোগ হলো আর্জেন্টাইন অধিনায়কের ঝুলিতে।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য গোল পেয়েও হতাশ হতে হয়েছিল মেসিকে। পঞ্চম মিনিটে তার করা একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। একইভাবে অফসাইডের ফাঁদে পড়ে আলজেরিয়ার একটি গোলও বাতিল হয়, যা ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর একটি ছিল।
এদিন আরেকটি বিরল মাইলফলক স্পর্শ করেন মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ২০০তম ম্যাচ খেলেন তিনি, যা তাকে ইতিহাসের তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে এই কৃতিত্ব এনে দেয়। এর আগে শুধুমাত্র ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং কুয়েতের সাবেক ফরোয়ার্ড বাদের আল-মুতওয়া এই ক্লাবে নাম লিখিয়েছিলেন।
এছাড়া এটি ছিল মেসির ষষ্ঠ বিশ্বকাপ আসর। পুরুষ ফুটবলের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। তাই আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচটি শুধু জয়ের জন্য নয়, একাধিক ঐতিহাসিক অর্জনের কারণেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে মেসির ক্যারিয়ারে।
মন্তব্য করুন