চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আগের দেওয়া আদেশ বাতিল করেছেন আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত বাদীপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান জানান, সালমান শাহর মামা ও মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিলের জন্য আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত গত ২৪ মে দেওয়া আগের আদেশটি বাতিল করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মামলাটি দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান। এত দীর্ঘ সময় পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনে কার্যকর প্রমাণ পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। এর আগে ১৯৯৭ সালে একবার মরদেহ উত্তোলনের সময় সেটি চরম পচনশীল অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল বলেও আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়।
আরও বলা হয়, সালমান শাহকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছিল এবং সেখানে বারবার মরদেহ উত্তোলনের চেষ্টা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব কারণেই মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিলের আবেদন জানানো হয়।
এর আগে ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর জিয়াউল মোর্শেদ মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি চান। পরে ২৪ মে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে উত্তোলন, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুকে ঘিরে প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা হলেও পরে এটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করা হয়।
পরবর্তী তদন্তে সিআইডি, র্যাব এবং পিবিআই পৃথকভাবে তদন্ত করে কোনো হত্যার প্রমাণ পায়নি। তবে সালমান শাহর পরিবার নতুন করে পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে, যার ধারাবাহিকতায় মামলাটি এখনো আলোচনায় রয়েছে।
মন্তব্য করুন