গ্রীষ্মের তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ত্বকের যত্নে অনেকেই সচেতন থাকলেও চোখের সুরক্ষার বিষয়ে এখনো অনেকের মধ্যে উদাসীনতা দেখা যায়। অথচ শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল অঙ্গগুলোর একটি চোখ। অতিরিক্ত তাপ, ধুলাবালি, আর্দ্রতা এবং অতিবেগুনি রশ্মির কারণে এ সময়ে চোখে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, গরমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে চোখকে রক্ষা করতে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চলা জরুরি। বিশেষ করে দিনের বেলা বাইরে বের হলে মানসম্মত সানগ্লাস ব্যবহার করা উচিত। এতে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ও অতিরিক্ত তাপ থেকে চোখ সুরক্ষিত থাকে। পাশাপাশি প্রশস্ত কিনারাযুক্ত টুপি ব্যবহার করলে মুখ ও চোখ উভয়ই সরাসরি রোদ থেকে সুরক্ষা পায়।
তীব্র গরমে চোখ সতেজ রাখতে দিনে কয়েকবার পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে চোখ ও মুখ ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে ধুলাবালি ও ময়লা দূর হওয়ার পাশাপাশি চোখে সংক্রমণের ঝুঁকিও কমে আসে।
এসি কক্ষে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যেতে পারে। ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়। এ কারণে এসির বাতাস যেন সরাসরি চোখে না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়, যা চোখের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই শরীরের পানিশূন্যতা রোধে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা দুপুরের তীব্র রোদে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন।
সানস্ক্রিন ব্যবহারের সময়ও সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনোভাবেই তা চোখের ভেতরে প্রবেশ না করে। অন্যদিকে সুইমিং পুল বা জলাশয়ে সাঁতার কাটার সময় অবশ্যই গগলস ব্যবহার করা উচিত। কারণ ক্লোরিন ও বিভিন্ন জীবাণু চোখের ক্ষতি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, প্রতিদিন অন্তত ছয় থেকে আট ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুম চোখকে বিশ্রাম দেয় এবং চোখের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
এছাড়া চোখে শুষ্কতা বা অস্বস্তি দেখা দিলে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই আই ড্রপ ব্যবহার করেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যেকোনো ধরনের চোখের ড্রপ ব্যবহারের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন