কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের প্রভাবে মেমোরি চিপের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিজেদের পণ্যের মূল্য বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম বাড়ানো এড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে টিম কুক বলেন, অ্যাপল দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহকারীদের বাড়তি খরচ নিজেরা সামলানোর চেষ্টা করেছে এবং গ্রাহকদের ওপর প্রভাব কম রাখার চেষ্টা করেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি আর দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।
তবে অ্যাপলের পক্ষ থেকে এখনো জানানো হয়নি, কবে থেকে নতুন মূল্য কার্যকর হবে বা কোন কোন পণ্যে দাম বাড়তে পারে। আসন্ন আইফোন ১৮ সিরিজের দামও বাড়বে কি না, সে বিষয়েও এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোন, কম্পিউটার ও অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো মেমোরি চিপ। সাম্প্রতিক সময়ে এআই সার্ভার ও উন্নত প্রযুক্তির চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চিপ উৎপাদন খাতে চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে মেমোরি চিপের সরবরাহ কমে দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
টিম কুক বলেন, ভোক্তা প্রযুক্তিপণ্যের জন্য মেমোরির দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিপ বাজার স্থিতিশীল না হলে প্রযুক্তি শিল্পে এর প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে র্যামের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একসময়ের তুলনামূলক কম খরচের এই উপাদান এখন প্রযুক্তি নির্মাতাদের জন্য বড় ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংঘাত ও সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যাও চিপ উৎপাদন খরচ বাড়িয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে।
বাজার গবেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। নতুন এআই ফিচার যুক্ত করার জন্য উন্নত হার্ডওয়্যার ব্যবহারের কারণে ভবিষ্যতের স্মার্টফোনের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অ্যাপল নয়, পুরো প্রযুক্তি শিল্পই এখন চিপ সংকটের প্রভাব মোকাবিলা করছে। অনেক প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ানো, অফার কমানো অথবা পণ্যের স্পেসিফিকেশনে পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও চিপের মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উন্নত চিপ সরবরাহকারী নির্মাতারা ভবিষ্যতে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের চাপে পড়েছে। গেমিং কনসোলসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের দাম ইতোমধ্যে কিছু বাজারে বাড়ানো হয়েছে।
তবে অ্যাপলের ব্যবসায়িক অবস্থান এখনো শক্তিশালী রয়েছে। সাম্প্রতিক আইফোন সিরিজ বাজারে ভালো সাড়া পাওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ডিভাইস বিক্রিও আগের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে অ্যাপল এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
তবে বর্তমান চিপ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রযুক্তিপণ্যের বাজারে নতুন মূল্য বাস্তবতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন