ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ গণতন্ত্রে হস্তক্ষেপ করছে: স্টারমার

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

হেনরি নওয়াক হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মন্তব্য নিয়ে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার অভিযোগ করেছেন, এই ঘটনায় মার্কিন শীর্ষ পর্যায়ের কিছু বক্তব্য যুক্তরাজ্যের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অযাচিত হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত বহন করে।

ডাউনিং স্ট্রিট আনুষ্ঠানিকভাবে কারও নাম উল্লেখ না করলেও বিষয়টি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ভ্যান্স ইউরোপের অভিবাসন নীতি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা করে হেনরি নওয়াক হত্যার প্রসঙ্গ টানেন, যা নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।

এর প্রতিক্রিয়ায় ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যক্তি যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছেন এবং সামাজিক বিভাজন উসকে দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি নওয়াক পরিবারের শোককে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রাখার আহ্বান জানান।

হেনরি নওয়াক হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাজ্যজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ভিকরাম ডিগওয়া আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের আচরণ নিয়ে স্বাধীন তদন্তও চলছে।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ঘটনাটিকে পশ্চিমা সমাজের কিছু গভীর সমস্যার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের বক্তব্যে ‘দুই-স্তরের পুলিশিং’ এবং আদর্শিক প্রভাবের বিষয়ও উঠে আসে, যা ব্রিটেনে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে অবশ্যই নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং যেকোনো অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করা উচিত। তবে বিদেশি মন্তব্যের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টাকে তিনি সমর্থন করেন না।

ঘটনাটি ঘিরে ব্রিটিশ রাজনীতিতেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কয়েকজন বিরোধী নেতা যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন এবং বিষয়টিকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য অস্বস্তিকর বলে উল্লেখ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, হেনরি নওয়াক হত্যাকাণ্ড এখন শুধু একটি অপরাধমূলক ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি অভিবাসন নীতি, পুলিশি আচরণ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিনিয়োগ ও জ্বালানিতে বাংলাদেশে আগ্রহী জার্মানি

1

দুপুরের মধ্যে ১৮ অঞ্চলে ঝড়-বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা

2

নির্যাতনের অভিযোগে ভেনিজুয়েলায় কারাগারের নিয়ন্ত্রণ নিলো বন্দ

3

রান্নার ঝামেলা ছাড়াই ১০ মিনিটে বানিয়ে নিন ৭ পুষ্টিকর খাবার

4

আজ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন

5

‘অ্যাসিডিটি’ ভেবে ভুল নয়, হার্ট অ্যাটাকের এই লক্ষণগুলো চিনুন

6

সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে নেইমার বিশ্বকাপ জেতাবে : রোনালদো

7

এখন আর কেউ জিজ্ঞেস করবে না, কেপ ভার্দে কোথায়?

8

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের পর নতুন সমীকরণ

9

অবসরের পরিকল্পনা ‘চূড়ান্ত’ করেছেন মেসি!

10

বিয়ে করলেন উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী

11

হরমুজ প্রণালীতে বিশেষ সাবমেরিন মোতায়েন করল ইরান

12

ভ্যাটের আওতায় আসছে সব ব্যবসা

13

সন্তান জন্ম দিতে বছরে কত মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে যান, কেন ‘বার্থ

14

আজ থেকে সুন্দরবন প্রবেশে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু

15

গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিদের জন্য স্বস্তির খবর

16

বলসোনারোর সাজা কমানোর আইন স্থগিত করল ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট

17

টিন সার্টিফিকেট থাকলেও করমুক্ত সীমা? ঘরে বসে অনলাইনে জিরো রি

18

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে দল ঘোষণা করল বাংলাদেশ

19

বিশ্বকাপে আরও উন্নতি দরকার ব্রাজিলের: ভিনিসিয়ুস জুনিয়র

20