ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সেই মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে উত্তাল রূপগঞ্জ

গাজী মোজাম্মেল হক

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় আনন্দ হাউজিং প্রকল্পকে কেন্দ্র করে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনগণের জমি অবৈধভাবে দখল করে প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিযোগে শনিবার গুতিয়াব নামাপাড়া এলাকায় প্রকল্পের গেটের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা প্রকল্পের সব কার্যক্রম বন্ধ, জমির প্রকৃত মালিকদের অধিকার নিশ্চিত এবং জোরপূর্বক জমি দখল বন্ধের দাবি জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পটির মালিক গাজী মোজাম্মেল হক, যিনি পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি, ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জমি দখল করেছেন। গুতিয়াবো, মধুখালী, সুরিয়াবো, জাঙ্গীর, আগারপাড়া ও নামাপাড়াসহ অন্তত ১০টি এলাকার জমি জবরদখল করে বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি একটি বড় খালসহ পাঁচটি খাল ভরাট করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

নামাপাড়া এলাকার হাজি সোলায়মান মিয়া জানান, তার বাপ-দাদার ৯ বিঘা জমি দখল করা হয়েছে এবং তার মাছের খামার ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি অন্যের জমিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অন্যদিকে, আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে পানিবন্দি করে রাখা হয়েছে, যার ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আনন্দ হাউজিংয়ের নিজস্ব গুণ্ডাবাহিনী রয়েছে, যারা জমির মালিকদের ভয়ভীতি দেখায় এবং প্রতিবাদ করলে হামলা চালায়। ভুয়া দলিল তৈরি করে জমি ক্রয়ের নাটক, প্রকৃত মালিকদের হয়রানি এবং জোরপূর্বক জমি লিখে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না বলেও দাবি করেছেন তারা।

মানববন্ধনের এক পর্যায়ে পুলিশ এসে কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করে দেয় বলে জানা গেছে। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে আরও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জমির মালিকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের জমি ফেরত না দেওয়া হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন এবং প্রয়োজনে সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেবেন।

অন্যদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে, গাজী মোজাম্মেল হক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে আদালত তার নামে থাকা ৬৫ বিঘা জমি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তার স্ত্রী ও সন্তানের নামে থাকা বেশ কিছু সম্পদ জব্দ ও ২৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, রূপগঞ্জে আনন্দ হাউজিং প্রকল্প ঘিরে জমি দখলের এই অভিযোগ এখন একটি বড় সামাজিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত সমাধান ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন, আর দুদকের চলমান তদন্ত এই ঘটনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকায় আসার আগে দ্বিবেদী-ত্রিবেদীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

1

বিএনপি সরকারের দ্বিতীয় একনেক বৈঠক আজ

2

আবার বন্ধ হলো হরমুজ প্রণালি

3

চুক্তি না মানলে আরো ভয়াবহ হামলা শুরু হবে : ট্রাম্প

4

ফিনল্যান্ডকে উড়িয়ে বিশ্বকাপের আগে জার্মানির শক্তির বার্তা

5

লাখ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে

6

হামের প্রকোপে নিভে গেছে কিছু আলো : সাকিব

7

গরম কমবে কবে জানালো আবহাওয়া অফিস

8

নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবিতে ইসরায়েলে বিক্ষোভ

9

বিশ্বকাপে খেলতে ইরানের ১০ শর্ত

10

মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের আভাস, আসতে পারে নতুন মুখ

11

৫ জেলার জন্য কালবৈশাখীর সতর্কবার্তা

12

দক্ষিণ সুদানে চরম খাদ্য সংকট, ৮০ লাখ মানুষ ঝুঁকিতে

13

দেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

14

পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

15

আগস্টে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা ইসির

16

এসএসসি পরীক্ষায় ফিরছে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল

17

শিশুদের সুরক্ষায় এআই নীতিমালা কঠোর করছে চীন

18

টিভিতে আজকের খেলার সময়সূচি

19

সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হামলার হুমকি ছাত্রদল নেতার

20