ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিতর্ক

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশযুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড’ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই চুক্তির কিছু শর্ত দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও নীতিনির্ধারণ ক্ষমতার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, চুক্তিটি শুধু পণ্যের শুল্ক বা বাজার প্রবেশাধিকার নিয়েই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এতে বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষি, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা খাতসহ বিস্তৃত ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারের স্বাধীনতা সীমিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

চুক্তিতে জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। এতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার উল্লেখ রয়েছে, যা দেশের জ্বালানি খরচ ও বাজার প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া কৃষিখাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ গম, সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একইভাবে, বাণিজ্য নীতিতে কিছু বাধ্যবাধকতা আরোপের ফলে স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত খাত। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন কিছু শর্ত ভবিষ্যতে কৌশলগত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা-এর নিয়মাবলির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এবং আনু মুহাম্মদসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ এই চুক্তির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাদের মতে, যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক ভারসাম্য এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।

অন্যদিকে, কিছু নীতিনির্ধারক মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বড় অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা প্রয়োজন। তবে সেই সম্পর্ক যেন পারস্পরিক সম্মান ও ভারসাম্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, এই চুক্তি নিয়ে জনমত এখনো বিভক্ত। কেউ এটিকে অর্থনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ দেখছেন সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে। ফলে বিষয়টি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা, সংসদীয় পর্যালোচনা এবং বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বালের্দির বদলি হিসেবে আর্জেন্টিনা দলে সেনেসি

1

বিশ্বকাপ নিয়ে রিভালদোর সঙ্গে তর্কে জড়ালেন নেইমার

2

কাপ্তাই হ্রদে লঞ্চের ধাক্কায় যাত্রীবাহী নৌকাডুবি

3

ঈদ যাত্রার দ্বিতীয় দিনের ট্রেনের টিকিট বিক্রি আজ

4

শিক্ষার্থীরা রিডিং না পারলে শিক্ষকদের বেতন বন্ধের সিদ্ধান্ত

5

রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

6

৫ জেলার জন্য কালবৈশাখীর সতর্কবার্তা

7

আফগান-পাক উত্তেজনায় ব্রিটিশ মন্তব্য ঘিরে কূটনৈতিক বিরোধ

8

রামিসা হত্যাকাণ্ডে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন চাইলেন

9

দুই মাস পর খুললো কুয়েতের আকাশসীমা

10

২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড় ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি নয়: ইরান

11

আজ শুরু জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন

12

ড. ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট

13

কমছেই না শিশু নির্যাতন

14

এমপিওভুক্ত হচ্ছে না ১ হাজার ৭১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

15

ইসলামী ব্যাংকের আমানত নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই: গভর্নর

16

ঢাবিতে প্রথম বুদ্ধিস্ট কালচারাল ফেস্ট অনুষ্ঠিত

17

সন্ধ্যার মধ্যে ৭ জেলায় বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড়ের আশঙ্কা

18

ট্রাম্পের নৈশভোজে গুলির ঘটনায় ওবামার নিন্দা

19

দক্ষিণ কোরিয়াকে হেলিকপ্টার বিক্রির অনুমোদন দিলো যুক্তরাষ্ট্র

20