ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচি ঘিরে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ট্রেজারি বিভাগ |সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ইরানের সামরিক কর্মসূচিতে সহায়তার অভিযোগে চীন, হংকং, দুবাই ও বেলারুশভিত্তিক ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব ব্যক্তি ও কোম্পানি ইরানের শাহেদ ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও কাঁচামাল সংগ্রহে ভূমিকা রেখেছে।

শুক্রবার (৮ মে) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ট্রেজারি বিভাগ জানায়, ইরান যেন তার সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এই অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ ইরানি বাণিজ্যে জড়িত বিদেশি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা এমন সময়ে এলো যখন Donald Trump একদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে Xi Jinping–এর সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে নতুন এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক কূটনীতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রেজারি বিভাগের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক শিল্পকে সহায়তা করা বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে। এর মধ্যে চীনের স্বাধীন ‘টিপট’ তেল শোধনাগারের সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রতিষ্ঠানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান Obsidian Risk Advisors–এর ব্যবস্থাপনা প্রধান ব্রেট এরিকসন বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল এবং আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তার জন্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা একটি বড় উদ্বেগ। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ মূলত সেই সক্ষমতাকে সীমিত করার প্রচেষ্টা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এর পর থেকেই ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলেছে।

ব্রিটিশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত Centre for Information Resilience–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় ড্রোন উৎপাদনকারী দেশ। দেশটির প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার ড্রোন তৈরির সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে চীনভিত্তিক ইউশিতা সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কোম্পানি ও হিটেক্স ইনসুলেশন নিংবো কোম্পানি, দুবাইভিত্তিক এলিট এনার্জি, হংকংয়ের এইচকে হেসিন ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি ও মুস্তাদ লিমিটেড, বেলারুশভিত্তিক আর্মারি অ্যালায়েন্স এবং ইরানের পিশগাম ইলেকট্রনিক সাফেহ কোম্পানি।

বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন এই নিষেধাজ্ঞা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সদরঘাট লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার পেল সহায়তা

1

গাজায় নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৭২৭৪০

2

কান চলচ্চিত্র উৎসবে আলিয়া ভাটের নজরকাড়া উপস্থিতি

3

রাশিয়ার ‘শাহেদ ড্রোন’ রুখতে মরিয়া ইউক্রেন

4

ইরাক দিক থেকে কুয়েত সীমান্তে ড্রোন হামলা

5

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশকে প্রধানমন্ত্রীর অ

6

মানবজাতিকে বিলুপ্ত করতে যতগুলো পরমাণু বোমা লাগবে

7

নাসির-তামিমা দম্পতি মামলায় খালাস পেলেন

8

আগস্টে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা ইসির

9

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী বার্তায় জটিল হচ্ছে আলোচনা: আরাগচি

10

জনগণকে গর্জে ওঠার আহ্বান জামায়াত আমিরের

11

ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি চুক্তিতে যে দাবিগুলো করেছেন পুতিন

12

প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করলেন মনিরা শারমিন

13

যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রপতির হৃদযন্ত্রে সফল স্টেন্ট স্থাপন

14

সোনিয়ার সাথে বৈঠক : কংগ্রেসে ফিরছেন না মমতা

15

এক দশক পর আবার পরিচালনায় ফিরলেন মৌসুমী

16

জ্বালানি তেলের সংকট দীর্ঘ হতে পারে বাংলাদেশে

17

সংসদ সদস্যদের খেলাপি ঋণ ৩,৩৩০ কোটি টাকা

18

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বেলারুশের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

19

বিশ্ব কূটনীতির নতুন কেন্দ্র বেইজিং

20