অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৩০ এএম
অনলাইন সংস্করণ

সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় নয়, অধিভুক্ত করার দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন

ছবি: সংগৃহীত

সাত কলেজের শিক্ষকরা প্রস্তাবিত কাঠামোতে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ না করার দাবি জানিয়েছেন।  বরং নাম ঠিক রেখে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা ক্যাম্পাস করে সাত কলেজকে তার অধিভুক্ত করার প্রস্তাব করেছেন তারা।

গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ভবনের সামনে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে এসব কথা জানান শিক্ষকরা। পরে এ বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বরাবর একটি স্মারকলিপিও দেন তারা।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষকরা বলেন, প্রস্তাবিত কাঠামোয় সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি হলে উচ্চশিক্ষা সংকোচন, নারীশিক্ষার প্রতিবন্ধকতা এবং শতবর্ষী ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র্য ধ্বংসের হুমকি রয়েছে। এজন্য প্রস্তাবিত কাঠামোয় বিশ্ববিদ্যালয় না করে পৃথক ক্যাম্পাস স্থাপন করে এ সাতটি সরকারি কলেজকে নতুন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হোক। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রস্তাবিত ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ থাকতে পারে।

এ সময় সাত কলেজ স্বাতন্ত্র্য রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যাপক মাহফিল আরা বেগম লিখিত বক্তব্যে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থেকে সাত কলেজকে অব্যাহতি দিয়ে একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা চলমান। কিন্তু হঠাৎ করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে যে কাঠামো সামনে এসেছে, তা এ প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা সংকোচন, শিক্ষার গুণগত মান হ্রাস এবং ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পরিপন্থী।

মানববন্ধনে শিক্ষকরা বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণা শক্তিশালীকরণ এবং ধাপে ধাপে সম্মান কোর্সে রূপান্তরের কথা বলা হলেও প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো তার সম্পূর্ণ বিপরীত।

তারা বলেন, এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের স্বল্প খরচে মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ সংকুচিত হবে। পুরান ঢাকায় উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে নির্ভরযোগ্য কবি নজরুল কলেজ রূপান্তরিত হলে দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উত্তর ঢাকায় যেতে হবে, যা শহরের যানজটে নতুন সংকট তৈরি করবে।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা এ সময় প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণা বাজেট বরাদ্দ, আধুনিক ল্যাব ও গ্রন্থাগার সুবিধা, আবাসন সংকট নিরসন এবং বৃত্তি বাড়ানোর মাধ্যমে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ঢাকার সাতটি সরকারি কলেজের জন্য যে প্রক্রিয়ায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটি বাস্তবায়িত হলে ওই সব কলেজের শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন শিক্ষকেরা। ওই সব কলেজের শিক্ষকেরা বলছেন, এতে শিক্ষার্থী কমে গিয়ে উচ্চশিক্ষা সংকোচন হবে, বাড়বে বৈষম্য। বিশেষ করে ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে নারী শিক্ষার সুযোগ কমে যাবে। কলেজগুলোর শিক্ষকদের পদ-পদবি নিয়েও জটিলতার সৃষ্টি হবে।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

স্ত্রীসহ সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুলের সম্পদ বিবরণী দা

1

গদি বাঁচাতে ট্রাম্পের সাহায্য চান ইনফান্তিনো, অস্বীকার হোয়াই

2

এক দশকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী আসছে

3

দেশে ফিরে বীরোচিত সংবর্ধনা পেলেন হালান্ডরা

4

ব্রাজিল-হাইতি ম্যাচে কে জিতবে? জানালো হাঙর

5

হরমুজ প্রণালিতে টোল বসানোর পরিকল্পনা ইরান-ওমানের

6

এভারেস্টে নতুন ইতিহাস গড়লেন দুই নেপালি পর্বতারোহী

7

সংকটের সময়ে ইরানে ত্রাণ পাঠালো কাজাখস্তান

8

ঈদের ছুটি শেষে আজ খুলছে অফিস-আদালত

9

মনজুর আলমের এনসিপি ও মেয়র নির্বাচন গুঞ্জন নিয়ে বক্তব্য

10

রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ ২০২৬

11

ফ্যামিলি কার্ডের কারণে বাজেটে কোনো চাপ পড়বে না

12

হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় চ্যালেঞ্জ ইরানের মশা নৌবহর

13

মিলে-মিশে ভিসা সমস্যার সমাধান করব- ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ

14

৯ ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে পারেন আর্জেন্টাইন তারকা

15

হজযাত্রীদের সেবায় নিবেদিত সৌদি যমজ বোন

16

বিতর্ক এড়াতে আর্জেন্টিনা-স্পেন ম্যাচে ৭ দেশের রেফারি

17

বকেয়া টাকা চাওয়ায় কাঠমিস্ত্রিকে মারলেন অভিনেতা সোহম

18

মেসির বিশ্বরেকর্ডে ক্লোসের হৃদয়ছোঁয়া বার্তা

19

আমার কাছে পুরো বিষয়টিই এক বিশাল প্রহসন: মেসির গোল্ডেন বল না

20