ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ১০:১৬ এএম
অনলাইন সংস্করণ

হঠাৎ করেই ইরানে হামলা চালালো যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই অভিযানকে তারা ইরানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি ‘আনুপাতিক প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে বিবেচনা করছে।

ওয়াশিংটনের দাবি, একটি ড্রোন হামলার মাধ্যমে মার্কিন হেলিকপ্টারটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তবে ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল কিনা, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। হামলার পর সমুদ্রপথে পরিচালিত একটি মার্কিন ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে হেলিকপ্টারের দুই পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। মার্কিন সামরিক ইতিহাসে এ ধরনের উদ্ধার অভিযানে ড্রোন ব্যবহারের এটিই প্রথম প্রকাশ্য ঘটনা বলে জানা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পাইলটরা নিরাপদ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শক্ত প্রতিক্রিয়া জানানো ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার জবাবে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া হবে ‘শক্তিশালী ও দৃঢ়’, এবং চলমান সামরিক অভিযান সেই নীতিরই প্রতিফলন।

প্রেসিডেন্টের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হয়েই এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ও রাডার ব্যবস্থা। হামলার পর ইরানের পারস্য উপসাগরীয় উপকূলবর্তী বন্দর আব্বাস, কেশম ও সিরিক এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে।

এদিকে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বিবৃতিতে বলেন, ইরান কোনো ধরনের হামলা বা হুমকিকে বিনা জবাবে ছেড়ে দেবে না। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে তাদের দ্রুত অঞ্চলটি ত্যাগ করা উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

1

পর্তুগালকে রুখে দিলো কঙ্গো, ১-১ গোলে ড্র

2

গুলিবিদ্ধ ‘কাইল্লা পলাশ’ মারা গেলেন

3

অবৈধ হজযাত্রীদের আশ্রয় দিলে জরিমানা

4

পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে কথার সময় কান্না করায় ৩ বছরের সন্তানকে

5

এমআরটি প্রকল্পের ধীরগতিতে চরম ভোগান্তি

6

ট্রাম্পের চাপের মধ্যেই নতুন ফেড প্রধানের শপথ

7

চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক আরও জোরদার

8

র‌্যাব আগের মতো থাকছে না, পাল্টে যাচ্ছে নাম

9

স্পেনের বিশ্বকাপ ট্রফি উদযাপনের সময় পেছন ফিরে দাঁড়ানোর কারণ

10

মাঝ আকাশে বিমানে দুই যাত্রীর মারামারি, ভিডিও ভাইরাল

11

ইরান ইস্যুতে যুদ্ধে না জড়ানোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলো ফ্রান

12

স্ত্রী পাল্টাতে পারবেন, কিন্তু প্রতিবেশীকে পাল্টাতে পারবেন ন

13

এনআইডির মহাপরিচালক বদলি

14

গণতন্ত্রকে সুসংগঠিত করতে কাজ করবে নারী এমপিরা

15

ভিএআরের যুগে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই, এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ

16

ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্পে নিহত ৩২, আহত ৭০০

17

ঝিনাইদহে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত

18

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ঘণ্টা বাজার পরেই শুনলেন বাবাও বেঁচে নেই

19

চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন দিগন্ত

20