লিওনেল মেসি যেন প্রতিটি ম্যাচেই ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করে তিনি আবারও নিজের মহত্ত্বের প্রমাণ দিয়েছেন। এই জয়ের ফলে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে এবং ‘জে’ গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য এক বিরল হতাশার মুখোমুখি হতে হয় মেসিকে। প্রথমার্ধে নেওয়া তার পেনাল্টি প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক রুখে দেন। এর ফলে বিশ্বকাপে তার পেনাল্টি মিসের সংখ্যা দাঁড়ায় তিনে, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে টাইব্রেকার বাদ দিয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সাতটি পেনাল্টি নেওয়ার রেকর্ডও এখন তার দখলে।
তবে বড় খেলোয়াড়দের আসল পরিচয় সংকট থেকে ফিরে আসায়। পেনাল্টি মিসের হতাশা কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করেন মেসি। এই দুই গোলের মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে ওঠেন। বর্তমানে তার গোলসংখ্যা ১৮।
মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা এখন আবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। দলটি যদি টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিততে পারে, তবে ১৯৬২ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো দল পরপর দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে।
বিশ্বকাপে মেসির অর্জন শুধু গোলেই সীমাবদ্ধ নয়। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার রেকর্ড গড়েন। পরে এই রেকর্ডে তার সঙ্গে যোগ দেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
এছাড়া ২০১৪ সালের ফাইনাল, ২০২২ সালের শিরোপা জয় এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স মিলিয়ে তিনি এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ফুটবলারও। তার ম্যাচসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮, যা এখনও বাড়ছে।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে মেসি আরেকটি বিরল কীর্তিও গড়েছেন। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপের সর্বশেষ ছয়টি গোলই এসেছে তার পা থেকে। পাশাপাশি জুস্ত ফঁতেন ও জাইরজিনিয়োর পর তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার নজির গড়েছেন তিনি।
সর্বকালের সেরা ফুটবলার নিয়ে বিতর্ক বহুদিনের। তবে মেসির ক্ষেত্রে সেই আলোচনা এখন অনেকটাই পরিসংখ্যাননির্ভর হয়ে উঠেছে। বিশ্বকাপ, আন্তর্জাতিক ফুটবল এবং ক্লাব পর্যায়ে তার ধারাবাহিক সাফল্য তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ের আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
উত্তর আমেরিকার মাটিতে যদি তিনি আরও একটি বিশ্বকাপ ট্রফি জয় করতে পারেন, তবে ফুটবলের সর্বকালের সেরা নিয়ে চলমান বিতর্ক আরও নতুন মাত্রা পেতে পারে।
মন্তব্য করুন