দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে এলাকাজুড়ে তীব্র সংঘর্ষের খবর দিয়েছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
শুক্রবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, রাতভর দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও সেই প্রক্রিয়াকে ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যেই সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে তাদের অভিযান এখনও চলমান রয়েছে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত থাকবে।
হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননের অভ্যন্তরে আরও অগ্রসর হওয়ার ইসরায়েলি প্রচেষ্টা তারা প্রতিহত করেছে। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোন, রকেট ও আর্টিলারি হামলার মাধ্যমে ইসরায়েলি সেনা ও সাঁজোয়া যানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং কয়েকটি এলাকায় তাদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনাও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাতসহ সব ফ্রন্টে সহিংসতা বন্ধ হওয়া জরুরি। তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে কূটনৈতিক আলোচনা ও শান্তি প্রচেষ্টার অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
প্রকাশিত বিভিন্ন সামরিক মানচিত্রে দেখা গেছে, দক্ষিণ লেবাননের ভেতরে ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি হলে পূর্ববর্তী আন্তর্জাতিক সমঝোতা ও সীমান্ত চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
অন্যদিকে লেবাননের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোকে কেন্দ্র করেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে জ্বালানি অনুসন্ধান ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও লেবানন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা আরও কঠোর সামরিক অবস্থানের পক্ষে মত দিচ্ছেন। একই সময়ে বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন হামলা ও সীমান্ত সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা প্রক্রিয়া এবং হিজবুল্লাহর অবস্থান এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে হাজারো মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং ১০ লাখের বেশি বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবিক সংকটে পড়েছেন। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দ্রুত সংঘাত নিরসনের আহ্বান আরও জোরালো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন