ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

প্রবীণ নারীদের একাকিত্ব ও সংকট

বৃদ্ধ বয়সে একা না থাকার মানবিক আকাঙ্ক্ষা থাকলেও বাস্তবতা অনেক সময় তার বিপরীত চিত্রই তুলে ধরে। আর্নেস্ট হেমিংওয়ের “দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি” উপন্যাসের বুড়ো সান্তিয়াগোর নিঃসঙ্গতার মতোই বাংলাদেশের অনেক প্রবীণ নারীও জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে একাকিত্ব ও অসহায়ত্বের মুখোমুখি হচ্ছেন। সমাজে তাদের অবস্থান ও বাস্তব জীবনের দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে।

বর্তমান বাংলাদেশে যৌথ পরিবারের পরিবর্তে নিউক্লিয়ার পরিবার গঠন, সন্তানদের কর্মসূত্রে ভিন্ন স্থানে অবস্থান এবং বিদেশে অভিবাসনের কারণে প্রবীণদের একা বসবাসের প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে একা বসবাসকারী বয়স্ক নারীদের মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে এই সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে, যা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে নারীদের গড় আয়ু পুরুষদের তুলনায় বেশি হওয়ায় অনেক নারীই স্বামী হারানোর পর জীবনের শেষ পর্যায়ে একা হয়ে পড়েন। দীর্ঘ কর্মজীবন ও পারিবারিক দায়িত্ব পালন শেষে এই নারীদের অনেকেই শারীরিক দুর্বলতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মানসিক একাকিত্বে ভুগতে থাকেন। জীবনের অধিকাংশ সময় পরিবার ও সন্তানদের জন্য উৎসর্গ করলেও বৃদ্ধ বয়সে অনেকেই পর্যাপ্ত সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন।

অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা এই সংকটকে আরও গভীর করে তোলে। অনেক নারীই জীবদ্দশায় কোনো সঞ্চয় গড়ে তুলতে পারেন না এবং পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার থেকেও বঞ্চিত হন। ফলে বার্ধক্যে এসে তারা সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। অন্যদিকে শারীরিক অক্ষমতা বা প্রতিবন্ধকতা থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

সমাজে বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে একটি নেতিবাচক ধারণা থাকলেও বাস্তবে এটি অনেক প্রবীণ নারীর জন্য নিরাপদ আশ্রয় হতে পারে। তবে দেশে মানসম্মত বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা সীমিত এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা সবার নাগালের বাইরে। ফলে বিকল্প ব্যবস্থার অভাবে অনেক প্রবীণ নারী চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বার্ধক্যকে জীবনের অবশ্যম্ভাবী অংশ হিসেবে বিবেচনা করে এ বিষয়ে আলাদা সামাজিক পরিকল্পনা থাকা জরুরি। সন্তানদের পাশাপাশি নারীদেরও নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন হওয়া দরকার, যাতে শেষ জীবনে তারা সম্পূর্ণ পরনির্ভরশীল হয়ে না পড়েন। পাশাপাশি পৈতৃক সম্পত্তিতে নারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রবীণ নারীদের জন্য বয়স্কভাতা, পেনশন ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে মানসম্মত বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠা এবং প্রবীণদের অধিকার রক্ষায় বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরান প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে, নয়তো ট্রাম্পের হাতে বিকল্প রয়

1

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়

2

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকে ট্রেইনি অফিসার নিয়োগ

3

অব্যবহৃত ৬ শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

4

বিতর্কিত পোস্ট করায় শাস্তি পেলেন করণ কেসি

5

যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিতে ইরানি দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা

6

ইরানের সঙ্গে আমিরাতের শক্তির কোনো তুলনা হয় না

7

যে ৫ কারণে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিততে পারে স্পেন

8

বহুতল ভবন থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ

9

মেসির রেকর্ড গড়া জোড়া গোল ও এক অ্যাসিস্টে মায়ামির দারুণ জয়

10

আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচে ‘ইচ্ছাকৃত পক্ষপাতের কোনো প্রমাণ পাইন

11

দুর্গম পাহাড় থেকে অসুস্থ বম নারীকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে উ

12

হোয়াইট হাউসে বৈঠকের আগে নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রক

13

অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের হার্টের ঝুঁকির কারণ

14

ভারতে জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় দিল্লিতে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চা

15

বিশ্বকাপ শেষ ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের

16

নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে নকআউটে বেলজিয়াম

17

ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় কলম্বিয়া, পেল সুইজারল্যান্ডকে

18

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে অংশীদারিত্ব জোরদারের অঙ্গীকার

19

বড় পর্দায় বিশ্বকাপ দেখার স্থানগুলোতে নজরদারি চালাবে ডিএমপি

20