বিশ্বকাপের মঞ্চে রেকর্ডের লড়াই জমে উঠেছে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মধ্যে। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৪-তে উন্নীত করেছিলেন এমবাপ্পে। সেই পারফরম্যান্সে তিনি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় আরও ওপরে উঠে যান এবং নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন।
তবে সেই আলো বেশিক্ষণ নিজের কাছে রাখতে দেননি লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতার আসনে পৌঁছে যান তিনি। ম্যাচের ১৭তম মিনিটে প্রথম গোল করে এমবাপ্পের সমতায় ফেরেন মেসি। এরপর দ্বিতীয় গোলের মাধ্যমে তাকে ছাড়িয়ে যান এবং ৭৬তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৬-তে উন্নীত করেন।
এই হ্যাটট্রিকের ফলে মেসি বিশ্বকাপ ইতিহাসে মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। একই সঙ্গে গোলদাতার তালিকায় এমবাপ্পের তুলনায় আরও এগিয়ে গেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ফলে বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতার দৌড়ে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে এমবাপ্পেও নিজের পারফরম্যান্সে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন। মাত্র ১৫টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেই ১৪ গোল করেছেন ফরাসি তারকা, যা তার অসাধারণ গোল করার দক্ষতার প্রমাণ। তুলনায় মেসির ১৬ গোল করতে লেগেছে ২৭ ম্যাচ, আর ক্লোসা ১৬ গোল করেছিলেন ২৪ ম্যাচে।
২০২২ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন এমবাপ্পে, আর বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছিলেন মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপেও দুজনই নিজেদের দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। একজন চাইছেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিততে, অন্যজন চাইছেন শিরোপা ধরে রাখতে। সেই সঙ্গে ব্যক্তিগত রেকর্ডের লড়াইটাও সমানভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
বিশ্বকাপের শুরুতেই মেসির হ্যাটট্রিক এবং এমবাপ্পের জোড়া গোল ফুটবলপ্রেমীদের সামনে নতুন এক প্রতিদ্বন্দ্বিতার গল্প তৈরি করেছে। টুর্নামেন্ট যত এগোবে, এই দুই মহাতারকার গোলযুদ্ধও ততই জমে উঠবে।
মন্তব্য করুন