ইরানে শান্তিচুক্তি বিরোধী বিক্ষোভ, আরাগচির বিরুদ্ধে স্লোগান
ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ :
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম |অনলাইন সংস্করণ
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে শান্তিচুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ |সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিকে ঘিরে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদ-এ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি কার্যালয়ের সামনে শনিবার (১৩ জুন) বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে চুক্তির বিরোধিতা করেন। তারা বিশেষ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি-র সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনের সামনে সমবেত বিক্ষোভকারীরা কালো ও লাল পতাকা নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। তাদের একটি অংশ আরাগচির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে চুক্তি প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য সমঝোতা ইরানের জাতীয় ও কৌশলগত স্বার্থকে পর্যাপ্তভাবে রক্ষা করবে না। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী-তে ইরানের প্রভাব কমে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, আলোচনার সময় ইরানি প্রতিনিধিরা অতিরিক্ত ছাড় দিতে সম্মত হয়েছেন।
এর আগে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি জানান, আলোচনায় থাকা খসড়া চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত কিছু নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে পারে। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, হরমুজ প্রণালীর প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায়ও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে রাজধানী তেহরান-এর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনেও বিক্ষোভের দৃশ্য দেখা গেছে। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা ‘আরাগচি, পদত্যাগ করো’ এবং ‘গালিবাফ, পদত্যাগ করো’ স্লোগান দিয়েছেন। যদিও এসব ভিডিওর সত্যতা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
বিক্ষোভে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ-ও। আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণে তার বিরুদ্ধেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কিছু বিক্ষোভকারী।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের কর্মকর্তারা সম্প্রতি জানিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তি দ্রুত স্বাক্ষরিত হতে পারে। তবে তেহরান এখনো এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই শান্তিচুক্তি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া গোষ্ঠী, অন্যদিকে কঠোর অবস্থানের সমর্থকদের মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
মন্তব্য করুন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
মনজুর আলমের এনসিপি ও মেয়র নির্বাচন গুঞ্জন নিয়ে বক্তব্য
1
দল বাঁচাতে আ.লীগের শীর্ষ নেতাদের দেশে ফেরার আহ্বান তৃণমূলের
2
হামের উপসর্গে একদিনে ১৬ শিশুর মৃত্যু
3
এনসিপিতে যোগ দিলেন নিজামীর ছেলে ড. নাদিম
4
জনগণের স্পষ্ট রায়কে অস্বীকার করছে সরকার ; আখতার
5
আপিলেও বাতিল মনিরা শারমিন-এর মনোনয়নপত্র
6
লিবিয়ায় নৌকা থেকে ৪০৪ অভিবাসী উদ্ধার
7
তিনদিনে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপত্র জমা প্রায় ৯০০