বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করেছে কুরাসাও। আর এই ঐতিহাসিক ম্যাচের সবচেয়ে বড় নায়ক হয়ে উঠেছেন গোলরক্ষক এলোয় রুম।
ইকুয়েডরের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র হওয়া ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখান ৩৭ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ কিপার। পুরো ম্যাচে তিনি মোট ১৫টি সেভ করেন, যা ১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের রেকর্ড সংরক্ষণের ইতিহাসে ৯০ মিনিটের ম্যাচে কোনো গোলরক্ষকের সর্বোচ্চ সেভ হিসেবে নতুন রেকর্ড।
ম্যাচ শেষে আবেগ ও হাস্যরস মিশ্রিত প্রতিক্রিয়ায় রুম বলেন, এটি তাদের জন্য এক অবিশ্বাস্য অনুভূতি। তার ভাষায়, এমন অর্জনকে শব্দে প্রকাশ করা কঠিন, কারণ কুরাসাওয়ের মতো ছোট দেশের জন্য এটি বিশাল সাফল্য।
তিনি আরও বলেন, “আমরা কোথা থেকে উঠে এসেছি, সেটা ভাবলে এই অর্জন অবিশ্বাস্য মনে হয়। আজ আমরা দেখিয়েছি, কঠিন পরিস্থিতিতেও লড়াই করা যায়।”
তবে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্বের পাশাপাশি কিছু আক্ষেপও ছিল তার। গোল করার সুযোগ থাকলেও তা কাজে লাগাতে না পারায় দলটি জিততে পারেনি বলে জানান তিনি। তবুও এই ড্রকে তিনি “জয়ের মতোই” মনে করছেন।
ভবিষ্যতের কথা বলতে গিয়ে মজার ছলে রুম বলেন, “৪০ বছর পরও আমি এই ম্যাচের কথা মনে রাখব। আমার মনে হয়, এখন কুরাসাওয়ে আমার একটা ভাস্কর্য বানানো উচিত।”
ছোট দেশ কুরাসাওয়ের জন্য এই ফল ঐতিহাসিক। প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে বড় ব্যবধানে হারার পর এমন পারফরম্যান্স দলটির আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই ড্রয়ের পরও নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রেখেছে কুরাসাও। শেষ ম্যাচে আইভরি কোস্টকে হারাতে পারলে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা নিশ্চিত করতে পারে তারা।
ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন রুম। এক ঘণ্টার ব্যবধানে তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারী কয়েক লাখ বেড়ে যায়, যা তার পারফরম্যান্সের জনপ্রিয়তাকে আরও স্পষ্ট করে।
মন্তব্য করুন