ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১০:৫৯ এএম
অনলাইন সংস্করণ

অপেক্ষায় থেকেই রোগীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা যেখানে সময়ের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে কয়েক দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য দেড় থেকে দুই মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে রোগীদের। এই দীর্ঘ বিলম্ব এখন বহু হৃদরোগীর জন্য নীরব মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, গুরুতর ব্লকেজ বা হার্টের ভালভজনিত সমস্যায় এ ধরনের দেরি যেকোনো সময় হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর কিংবা আকস্মিক মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জরুরি রোগীদেরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অথচ ‘তদবির’ থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই মিলছে অপারেশনের তারিখ। ফলে সামর্থ্যবানরা বেসরকারি হাসপাতালে ঝুঁকছেন, আর নিম্ন আয়ের রোগীরা পড়ছেন চরম অনিশ্চয়তায়।

হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের বাইরে দেখা যায়, রোগীর স্বজনরা উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। অপারেশন চলাকালেই বারবার বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে হচ্ছে, যার খরচ অনেক সময় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। এতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেও অনেক পরিবার আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।

অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সিরিয়ালে থাকা রোগী মারা গেলে বা অন্যত্র অপারেশন করালে সেই স্লট স্বচ্ছভাবে পুনর্বিন্যাস না করে নতুন রোগীর কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবেও দ্রুত সিরিয়াল পাওয়া যাচ্ছে। এতে সাধারণ রোগীরা আরও পিছিয়ে পড়ছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, রোগীর চাপই এ সংকটের মূল কারণ। গত কয়েক বছরে রোগীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে, যা এখন হাসপাতালের সক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি। কিছু বিভাগে এই চাপ ১০ গুণ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

পরিচালকের মতে, আগে যেখানে তিন মাস লাগত, এখন তা কমিয়ে দেড় মাসে আনা হয়েছে। তবুও এই সময়টুকুও গুরুতর রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যাপ্ত অবকাঠামো, জনবল ও বাজেটের অভাবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হৃদরোগ চিকিৎসা ঢাকার বাইরে বিকেন্দ্রীকরণ, অপারেশন সুবিধা বৃদ্ধি এবং সিস্টেমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করলে এই সংকট আরও তীব্র হবে। নইলে সময়মতো চিকিৎসার অভাবে প্রতিদিনই বাড়বে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর সংখ্যা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

লেবাননে ভয়াবহ ইসরাইলি হামলায় নিহত ১০

1

দেশে হামের উপসর্গে আরও এক মৃত্যু

2

বুর্জ খলিফাকে ছাড়িয়ে এবার সৌদিতে সর্বোচ্চ ভবন

3

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারের চুক্তির মেয়াদ বা

4

‘মহানগর ২’ ছাড়ার কারণ জানালেন ইমরান

5

দুপুরের মধ্যে ৪ জেলায় ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

6

‘আমি আর পারছি না’, লাইভে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ‘আলো আসবেই’ গ্র

7

এক বছরে রোনালদোর আয় ৩৭১০ কোটি টাকা, মেসি-এমবাপের কত?

8

ঢাকায় মঙ্গলবার ১১ দলের বিক্ষোভ সমাবেশ ঘোষণা

9

ঘটনা অনেক দেরিতে জানলাম

10

১৪ বছর পর রিয়াল মাদ্রিদকে হারাল বায়ার্ন মিউনিখ

11

জাতীয় পার্টির নির্বাচনী ব্যয় মাত্র ৫ লাখ টাকা

12

পাকিস্তানে সেনা বহনকারী ট্রেনে আত্মঘাতী হামলা

13

দুইয়ের বেশি সন্তান নিলেই মিলবে নগদ অর্থ

14

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ভারতে ফের জ্বালানির দাম বাড়ল

15

ট্রাম্পকে ‘মহা শয়তান’ আখ্যা

16

ঈদুল আজহা: কোরবানির ঈদের তাৎপর্য ও গুরুত্ব

17

জেট ফুয়েলের দাম লিটারে কমল প্রায় ১৬ টাকা

18

দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শিশু রামিসা

19

মেসিই সর্বকালের সেরা, সবচেয়ে বিপজ্জনক: হ্যারি কেইন

20