পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর দীর্ঘ বিরতির পরে প্রথমবারের মতো রাজপথের কর্মসূচিতে অংশ নেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার ধর্মতলায় আয়োজিত এই ধর্না কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।
ধর্মতলার এই কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবিধান হাতে নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে সংকটময় সময়ে তিনি দলের পাশে আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। একই সঙ্গে বিজেপিকে লক্ষ্য করে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সুযোগ পেলে বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন তৃণমূল নেত্রী। দলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং কর্মীদের মনোবল চাঙা করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
অন্যদিকে, হুগলির তারকেশ্বর সফরে গিয়ে এই কর্মসূচিকে সরাসরি কটাক্ষ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, ধর্মতলার সমাবেশে প্রত্যাশিত জনসমাগম হয়নি এবং উপস্থিতি ছিল খুবই সীমিত।
শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করে বলেন, সমাবেশে উপস্থিতি এতটাই কম ছিল যে সাংবাদিকদের সংখ্যাই উপস্থিত জনতার চেয়ে বেশি ছিল। তার ভাষায়, বাস্তব চিত্র আরও হতাশাজনক ছিল এবং সাংবাদিকরা না থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ দেখা যেত।
একই সফরে তারকেশ্বর উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন তিনি। ২০১৭ সালে গঠিত তারকেশ্বর উন্নয়ন পরিষদ এবং তার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তিনি দাবি করেন, গত এক দশকে কিছু উন্নয়ন হলেও বহু প্রকল্প এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, তারকেশ্বরের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে কথার লড়াই শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন