ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ইরানকে অত্যাধুনিক ড্রোন ও মরণাস্ত্র সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া

সংগৃহীত

রাশিয়া ইরানকে অত্যাধুনিক ড্রোন ও সামরিক প্রযুক্তি সরবরাহ করছে বলে নতুন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি উঠেছে। এসব অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সক্ষমতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মস্কো তেহরানকে এমন কিছু উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে, যা প্রচলিত জ্যামিং সিস্টেম দিয়ে আটকানো প্রায় অসম্ভব। একই সঙ্গে এসব ড্রোন পরিচালনার জন্য ইরানি সেনাদের বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

ব্রিটিশ সাময়িকী The Economist এক গোপন নথির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রুশ গোয়েন্দা সংস্থা GRU ইরানকে পাঁচ হাজার ফাইবার-অপটিক ড্রোন সরবরাহের পরিকল্পনা করেছে। বর্তমানে একই ধরনের ড্রোন ইউক্রেন যুদ্ধেও ব্যবহার করছে রাশিয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ড্রোন সাধারণ রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে পরিচালিত হয় না। বরং সরু ফাইবার-অপটিক তারের মাধ্যমে সরাসরি অপারেটর নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ফলে এগুলোকে ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা কঠিন এবং অপারেটরের অবস্থানও শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তির ড্রোন ৪০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নিখুঁত হামলা চালাতে সক্ষম। সম্প্রতি হিজবুল্লাহ–এর কাছেও একই ধরনের ড্রোন ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যা ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়া ইরানকে দূরপাল্লার স্যাটেলাইট-নির্ভর ড্রোন সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা করছে। এসব ড্রোনে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা যুক্ত থাকায় দীর্ঘ দূরত্বে হামলা পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

এদিকে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধের শুরুর দিকে যখন Donald Trump ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা খার্গ দ্বীপ নিয়ে সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনা করছিলেন বলে গুঞ্জন ওঠে, ঠিক সেই সময় রাশিয়া তেহরানের সঙ্গে এই সামরিক সহায়তার প্রস্তাব সামনে আনে।

এছাড়া মস্কো তাদের নিজস্ব কারখানায় তৈরি উন্নতমানের শাহেদ ড্রোন ইরানে পাঠানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ড্রোনে স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ প্রযুক্তি যুক্ত থাকার কারণে দীর্ঘপাল্লার অভিযানে এগুলোর কার্যকারিতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং উপসাগরীয় মিত্রদের জন্য এটি নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কক্সবাজারে সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত হলেন মা

1

বালের্দির বদলি হিসেবে আর্জেন্টিনা দলে সেনেসি

2

ঈদে মাংসের ভিন্ন স্বাদের ৪ রেসিপি জেনে নিন

3

ইরাক দিক থেকে কুয়েত সীমান্তে ড্রোন হামলা

4

নিলামে আরও ৫ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

5

ওমান উপকূলে তেলবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ড, দুই নাবিক নিখোঁজ

6

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭০ বাংলাদেশি

7

ভারতের ৫ রাজ্যের বিধানসভা ফলাফল: কোথায় কে গড়ছে সরকার

8

রাজধানীর কালশীর বস্তিতে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৭ ইউনিট

9

সংকট মোকাবেলায় ১০০ কোটি লিটার জ্বালানি মজুত করবে অস্ট্রেলিয়া

10

১৮ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস

11

নাহিদ ইসলাম নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁন

12

বৈদেশিক বাজারে ভারতীয় রুপির রেকর্ড দরপতন

13

আজ থেকে ভারতের পণ্যে ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক কার্যকর

14

বিশ্বকাপ শুরুর দিনেই টিকিট কেলেঙ্কারি

15

জনগণের চাহিদায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: রিজভী

16

মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের বিপ্লবী গার্ড

17

বিশ্বকাপ ২০২৬ ভাঙতে পারে সব দর্শক রেকর্ড

18

ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু কানাডার

19

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে উঠেই বিপদে আর্জেন্টিনা

20