ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ১১:০১ এএম
অনলাইন সংস্করণ

এমআরটি প্রকল্পের ধীরগতিতে চরম ভোগান্তি

সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর নতুনবাজার, ভাটারা ও বারিধারা এলাকায় মেট্রোরেল প্রকল্পের ইউটিলিটি স্থানান্তর কাজ দীর্ঘায়িত হওয়ায় জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এমআরটি লাইন-১ ও লাইন-৫ নির্মাণের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি চলায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদ্দা থেকে নতুনবাজারগামী সড়ক, কোকা-কোলা পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকা, বারিধারা বাইরোড, ১০০ ফিট মাদানি এভিনিউ, ভাটারা থানার সামনে ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ব্যাপক খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। ফলে এসব এলাকায় প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট, ধুলাবালি ও বৃষ্টির সময় কাদার দুর্ভোগ—যা পথচারী ও যাত্রীদের জন্য নিত্যদিনের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বারিধারার এক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী জানান, আগে বিকেলেই ভালো বিক্রি হতো, এখন সারাদিন দোকান খোলা রেখেও সেই আয় হচ্ছে না। একইভাবে একটি ফার্নিচার শোরুমের ম্যানেজার বলেন, রাস্তা খারাপ হওয়ার পর থেকে ক্রেতা আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় দোকান মালিকদের অভিযোগ, রাস্তাঘাটের কারণে অনেক ক্রেতা এলাকাতেই ঢুকতে পারছেন না। ফলে দোকানে বিক্রি প্রায় বন্ধের পথে। তারা দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।

নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, উন্নয়নকাজে সাময়িক ভোগান্তি স্বাভাবিক হলেও কাজ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে মানুষের কষ্ট বহুগুণ বেড়ে যায়, যা পরিকল্পনার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একই এলাকায় একাধিক সংস্থার কাজ একসঙ্গে চলায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের অধীনে এমআরটি লাইন-১ ও ৫-এর কাজ সমন্বয় করে করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে ডেসকো, ওয়াসা, তিতাস গ্যাস ও সিটি করপোরেশনের ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজও যুক্ত হওয়ায় সময় বেশি লাগছে।

প্রকল্প কর্মকর্তারা আরও জানান, বারিধারা এলাকার কিছু অংশে এখনো ড্রেনেজ পাইপ বসানোর কাজ বাকি রয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সড়ক পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এসব কাজ শেষ করে আগামী আগস্টের মধ্যে সড়ক আংশিকভাবে চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এমআরটি লাইন-১ দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল, যা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত প্রায় ১৯.৮৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। অন্যদিকে এমআরটি লাইন-৫ (নর্দান রুট) ভাটারা থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার বিস্তৃত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকায় ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যা চালু হলে লাখো মানুষ উপকৃত হবে। তবে এই উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের সময় জনদুর্ভোগ কমাতে বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা ও কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কফির দেশ কলাম্বিয়ায় এবার কফি বিশ্ববিদ্যালয়

1

জলাবদ্ধতায় ডুবেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ

2

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গেলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহ

3

নারীর প্রতি কেন বিদ্বেষপূর্ণ ভাষা

4

ইরানের বিপুল ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

5

তীব্র তাপপ্রবাহে বিদ্যুৎ সংকট চরমে

6

ডিআইজিসহ পুলিশের ১৭ কর্মকর্তার বদলি

7

করোনাকালে বাড়লেও ক্রমেই কমছে স্টার্টআপে বিনিয়োগ, নীতি সহজ কর

8

হরমুজ প্রণালিতে কড়া নিয়ন্ত্রণে ইরান

9

হাসনাত আব্দুল্লাহর ‘লাল কার্ড’ পোস্ট ঘিরে তোলপাড়

10

লেবাননে ভয়াবহ ইসরাইলি হামলায় নিহত ১০

11

বিক্ষোভের চাপে বলিভিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

12

ইরানের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া লাইফ সাপোর্ট, দাবি ট্রাম্পের

13

ট্রাম্পকে ‘মহা শয়তান’ আখ্যা

14

দুপুরের মধ্যে ৭ জেলার ওপর দিয়ে ৬০ কিমি বেগে ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি

15

তরুণদের মধ্যে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি

16

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফের যুদ্ধের শঙ্কা ইরানের

17

হোয়াইট হাউসের প্রতি ‘মোহ’ ছিল বন্দুকধারীর: ট্রাম্প

18

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চিন্তায় মরিয়া সরকার

19

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করল ইরান

20