ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

তৃণমূল থেকে অপসারিত মমতা, এরপরে কী

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঋতব্রত ব্যানার্জীর নেতৃত্বে একটি ‘বিদ্রোহী’ অংশ দলীয় সভানেত্রী মমতা ব্যানার্জীকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে কিছু সময় পরই ওই অবস্থান থেকে সরে এসে ঋতব্রত ব্যানার্জী জানান, মমতা ব্যানার্জীই তাদের পথপ্রদর্শক হিসেবে থাকবেন।

কলকাতার নিউ টাউনের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই বিদ্রোহী অংশ নিজেদের জাতীয় কর্মসমিতি ঘোষণা করে। সেখানে দলের বহু বিধায়ক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির উপস্থিতির কথা জানা গেছে।

বৈঠকে চেয়াপার্সন পদে মমতা ব্যানার্জীর নাম না থাকায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীর নামও অনুপস্থিত থাকায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বরং সেখানে মহাত্মা গান্ধী, আম্বেদকর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের ছবি ব্যবহার করা হয়, যদিও তৃণমূলের ঐতিহ্যবাহী জোড়াফুল প্রতীক রাখা হয়।

পরবর্তীতে সাংবাদিক সম্মেলনে ঋতব্রত ব্যানার্জী দাবি করেন, অরূপ রায়কে সর্বসম্মতিক্রমে দলের নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, রাজ্য ও জেলা পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠনসহ সাংগঠনিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তগুলো সম্পূর্ণ নিয়ম ও সাংগঠনিক কাঠামো অনুসরণ করেই নেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে বিষয়টি জানানো হবে।

অন্যদিকে মমতা ব্যানার্জীর পক্ষ থেকে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে পৃথক একটি কর্মসমিতির তালিকা জমা দেওয়া হয়, যেখানে তাঁকে চেয়ারপারসন এবং অভিষেক ব্যানার্জীকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখানো হয়।

এই তালিকায় দলের বর্ষীয়ান নেতা সুব্রত বক্সীসহ বিভিন্ন শীর্ষ নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বিদ্রোহী অংশের বহু নেতার নাম বাদ পড়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই দলের দুইটি পৃথক কর্মসমিতির দাবি এখন নির্বাচন কমিশনের জন্য জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। দলের প্রতীক, নেতৃত্ব ও সম্পত্তি কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে—এ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে বিদ্রোহী অংশের সঙ্গে যুক্ত কিছু জনপ্রতিনিধি ইতিমধ্যেই দলত্যাগের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে নতুন সমীকরণ তৈরির কথাও আলোচনায় এসেছে।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই পুরো ঘটনাকে ‘অসাংগঠনিক তৎপরতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দলীয় মুখপাত্রদের দাবি, মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বই তৃণমূল কংগ্রেসের মূল ভিত্তি এবং তার বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী কোনো স্বীকৃত দলের মধ্যে বিভাজন দেখা দিলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা, সাংগঠনিক কাঠামো এবং দলীয় সংবিধান—এই তিনটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিরোধীদের লক্ষ্য দেশকে অশান্ত করা: প্রধানমন্ত্রী

1

হাম ও উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

2

মাতৃত্বে নারীর মস্তিষ্কে ঘটে বিস্ময়কর পরিবর্তন

3

রানার্সআপ হয়েও বীরের মর্যাদা,আর্জেন্টিনায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা

4

বিশ্বকাপে গোলের সেঞ্চুরি নেদারল্যান্ডসের

5

মেসির দলে যোগ দিলেন ব্রাজিলের ক্যাসেমিরো

6

আছিয়া-রামিসা হত্যা মামলার শুনানি দ্রুত চাইলেন অ্যাটর্নি জেনা

7

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

8

সৌদি থেকে বড় জ্বালানি তেল চালান দেশে, সরবরাহে ফিরছে স্বস্তি

9

ইরানকে একঘরে করতে নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করল যুক

10

জেট ফুয়েলের দাম লিটারে কমল প্রায় ১৬ টাকা

11

ঋণ তুলে আর্জেন্টিনার পতাকা উড়ালেন সুমন

12

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন ড. সাইমুম পারভেজ

13

প্রার্থী বাছাইয়ে দ্বিতীয় দিনের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে বিএনপি

14

রাজশাহী থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ

15

গুচ্ছের ‘এ’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশিত

16

নারীর অংশগ্রহণ সব খাতে বেড়েছে: স্পিকার

17

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

18

গণভোটের রায় কার্যকর করার আহ্বান জামায়াত আমিরের

19

স্পেসএক্সের আইপিওতে শেয়ার মূল্য ১৩৫ ডলার

20