বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের বাড়িতে হামলার পরিকল্পনার তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে মুম্বাই পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, এই ঘটনায় অভিযুক্ত তিন বন্দুকধারী মুম্বাইয়ে প্রায় এক মাস অবস্থানের সময় অভিনেতা আমির খান, সালমান খান ও রণবীর সিংয়ের আবাসিক ভবনেও গিয়েছিলেন।
তবে এই তিন অভিনেতাকে হামলার লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল, নাকি অন্য কোনো কারণে তাঁদের বাসভবনের আশপাশে গিয়েছিলেন অভিযুক্তরা, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তরা কয়েকজন বলিউড তারকার আবাসিক ভবনে গিয়েছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। আমির খানের বাসভবন টাইগার শ্রফের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় অভিযুক্তদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্তকারীরা এখনো নিশ্চিত নন।
অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা পুলিশের। এরই মধ্যে কয়েকজন অভিনেতার বাসভবনের বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতীতেও এই তিন অভিনেতা হুমকি পেয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া হরিয়ানা থেকে জতিন ও সমীর নামে আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের উপকমিশনার রাজ তিলক রৌশন এ তথ্য জানান।
পুলিশের ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন আদালত মঞ্জুর করলে আটক দুজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হবে। সে ক্ষেত্রে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াবে ১০ জনে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজস্থানের কোটা থেকে দুই বন্দুকধারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজনকে। অন্যদিকে, হরিয়ানা থেকে ১৮ বছর বয়সী অঙ্কিত ওরফে রাজেশ খাতককে আটক করা হয়েছে।
দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার হওয়া চারজন হলেন কুণাল সঞ্জয় (২১), সুমিত সুরাহা (১৯), রাধা ভার্মা (২৯) ও বাবিতা রাও (২৪)।
পুলিশের অভিযোগ, কুণাল, সুমিত ও জতিন ‘ডেড ড্রপ’ পদ্ধতিতে অমৃতসর থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ পদ্ধতিতে একজন নির্দিষ্ট স্থানে কোনো বস্তু রেখে যান, পরে অন্য ব্যক্তি সেখান থেকে সেটি সংগ্রহ করেন। এতে দুই পক্ষের সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজন হয় না।
তদন্তকারীদের দাবি, অমৃতসর থেকে অস্ত্র সংগ্রহের পর অভিযুক্তরা দিল্লিতে যান। সেখানে কুণাল অস্ত্রটি রাধা ও বাবিতার হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ। ওই দুই নারী গত সপ্তাহে মুম্বাইয়ে অবস্থান করে নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে অস্ত্রটি বন্দুকধারীদের কাছে পৌঁছে দেন। পরে তাঁরা দিল্লিতে ফিরে যান।
অস্ত্র সরবরাহে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, অঙ্কিত ওরফে রাজেশ খাতক বন্দুকধারীদের সঙ্গে মুম্বাইয়ে গিয়েছিলেন। বিভিন্ন স্থানে গিয়ে নজরদারি চালাতে তিনি তাঁদের সহায়তা করেন বলে অভিযোগ।
এ ছাড়া অনিল পণ্ডিতের কাছ থেকে বন্দুকধারীদের কাছে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও অঙ্কিত করেছিলেন বলে দাবি পুলিশের। তদন্তকারীদের ধারণা, অভিযুক্তদের কাছে প্রায় দুই লাখ রুপি পাঠানো হয়েছিল। বিভিন্ন স্থানে নজরদারির কাজ শেষ হওয়ার পর অঙ্কিত হরিয়ানায় ফিরে যান বলে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
পুলিশের আরেক কর্মকর্তার দাবি, সমীর অভিযুক্ত রেহান আনসারি ও অনিল পণ্ডিতের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর মাধ্যমেই রেহানকে গুলি চালানোর পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
কোটা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের মুম্বাইয়ের আদালতে হাজির করা হয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বৃহস্পতিবার স্থানীয় আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
তদন্ত এখনো চলমান। আমির খান, সালমান খান ও রণবীর সিংয়ের বাসভবন পরিদর্শনের পেছনে অভিযুক্তদের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
মন্তব্য করুন