ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

জীবন ও সম্মান বাঁচাতে চুপ ছিলাম: মাহফুজ আলম

মাহফুজ আলম

সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, আদর্শিক বিরোধিতার কারণে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে নিজের জীবন ও সম্মান রক্ষার স্বার্থে একপর্যায়ে তিনি সম্পূর্ণ নীরব হয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে চলমান ব্যক্তি আক্রমণ বন্ধ হয়নি।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ‘সব দোষ মাহফুজ আলমের ইতিবৃত্ত’ শিরোনামের এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি নিজের বিরুদ্ধে চলমান সমালোচনা, রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিতর্ক নিয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানান।

মাহফুজ আলমের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তিনি কখনও নেতিবাচক মন্তব্য করেননি। তবে তার বিরুদ্ধে হওয়া সমালোচনার বড় অংশই এসেছে জুলাইপন্থী দাবি করা বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আদর্শিক গোষ্ঠীর কাছ থেকে। তিনি অভিযোগ করেন, এসব মহল দীর্ঘদিন ধরে তাকে লক্ষ্য করে ব্যক্তিগত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।

সাবেক এই উপদেষ্টা প্রশ্ন তোলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে তার দায়িত্ব পালনের সময়কালকে কেন্দ্র করে যদি সব দায় তার ওপর বর্তায়, তাহলে একই দায়িত্বে থাকা অন্যদের জবাবদিহিতার বাইরে রাখা হবে কেন। তার মতে, ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমালোচনার পরিবর্তে নীতিগত আলোচনাই হওয়া উচিত।

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, তিনি অতীতে বিভিন্ন আদর্শিক অবস্থানের সমালোচনা করেছেন, তবে সেটি ছিল রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ থেকে নয়। তিনি মনে করেন, মতাদর্শ নিয়ে বিতর্ক গণতান্ত্রিক রাজনীতির অংশ হলেও ব্যক্তি আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়।

স্ট্যাটাসে তিনি আরও দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আদর্শিক বিরোধিতার কারণে তাকে প্রশাসনের ভেতরেও নানা ধরনের চাপ ও বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়তে হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে নিজের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য তাকে প্রকাশ্যে কথা বলা কমিয়ে দিতে হয়।

বর্তমানে তিনি কোনো সরকারি দায়িত্বে নেই, সংসদ সদস্যও নন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বেও সক্রিয় নন উল্লেখ করে মাহফুজ আলম প্রশ্ন তোলেন, তারপরও কেন তাকে কেন্দ্র করে এত সমালোচনা ও আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে।

স্ট্যাটাসের এক পর্যায়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক প্রচারণা, মৃত্যুকামনা এবং সহিংস বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগও করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য উদ্বেগজনক এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কোনো একক ব্যক্তির সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, এমন আন্দোলন জনগণের সম্মিলিত শক্তির প্রতিফলন, তাই একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে এর সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ধারণ করা বাস্তবসম্মত নয়।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানান। গালিগালাজ, বিদ্বেষ ও ব্যক্তি আক্রমণের রাজনীতি পরিহার করে নীতিনির্ভর আলোচনা ও গঠনমূলক বিতর্কের মাধ্যমে একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সংস্কারের বকেয়া রেখে হালখাতা

1

জলবায়ু সংকট মোকাবিলা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

2

মানহানি মামলায় স্থায়ী জামিন পেলেন আমির হামজা

3

বিশ্বে সপ্তম দূষিত শহর ঢাকা

4

অভিনয়ে ফুটবলার জামাল ভূঁইয়া

5

জার্মান গণিতবিদকে পরের বিশ্বকাপে চেষ্টা করতে বলে নেইমারের খো

6

পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের মহড়া চালাল বেলারুশ

7

দেশমকে আবেগঘন বিদায়বার্তায় যা বললেন এমবাপ্পে

8

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ন্যাটো মিত্রদের বৈঠক

9

কাতার নয়, অন্য কোনো দেশেও যেতে রাজি নন শেখ হাসিনা

10

মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টেই করা যাবে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন

11

২০ বছর অপেক্ষার পর পাকিস্তানি দম্পতির স্বপ্ন পূরণ

12

পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করতে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা চলছে : তথ্য প্র

13

পবিত্র হজের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন ডা. শফিকুর রহমান

14

ফেসবুক পোস্টে যেসব অভিযোগ জানালেন আমির হামজা

15

আমেরিকা ছেড়ে আসা মোটেও সহজ ছিল না: মেগান মার্কেল

16

ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের সতর্কবার্তা দিলো ভারতীয় হাইকমিশন

17

বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম

18

অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা

19

আর্জেন্টিনাবিরোধী বক্তব্য দিলেই প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, ভিসা হবে

20