অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বিদায়ের পরও শান্তির বার্তা, হৃদয় ছুঁয়ে গেল ইরান

ছবি: সংগৃহীত



বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে অপরাজিত থেকেও শেষ ষোলোয় উঠতে পারেনি ইরান। অন্য গ্রুপের নাটকীয় ফলাফল ও টাইব্রেকারের জটিল সমীকরণে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের। ফলে নির্ধারিত সময়ে একটি ম্যাচও না হেরেও বিদায় নিতে হয়েছে আমির গালেনোইয়ের দলকে।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েও ফুটবলের সৌন্দর্য আর মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ইরান। মাঠে স্বপ্নভঙ্গ হলেও, আয়োজক শহর ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে রেখে গেছে হাতে লেখা এক আবেগঘন বার্তা। যেখানে ছিল শান্তি, সম্মান ও বন্ধুত্বের আহ্বান।

তবে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও কঠিন ছিল মাঠের বাইরের বাস্তবতা। প্রশাসনিক ও ভ্রমণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় অবস্থান করতে হয় ইরানকে। সেখান থেকে প্রতিটি ম্যাচ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আবার ফিরে আসতে হয়েছে।

ফলে দীর্ঘ ভ্রমণ, সীমিত বিশ্রাম ও ব্যাহত প্রস্তুতির মধ্যেই খেলতে হয়েছে দলটিকে। ভিসা জটিলতাসহ নানা প্রতিবন্ধকতার কথাও প্রকাশ্যে তুলে ধরেন প্রধান কোচ আমির গালেনোই।

মিসরের বিপক্ষে ড্রয়ের পর তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে খুবই খারাপ আচরণ করা হয়েছে। আশা করি বিশ্ব একদিন এই বিষয়গুলো জানতে পারবে।

আরও যোগ করেন, এই তরুণ ফুটবলাররা যা করেছে, তা ইতিহাসে লেখা থাকা উচিত। কারণ আয়োজকদের কাছ থেকে আমরা সবচেয়ে খারাপ আচরণের শিকার হয়েছি।

এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও ফুটবলে মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করেছে ইরানের খেলোয়াড়রা। আর টুর্নামেন্ট শেষে সেই মানসিকতারই প্রতিফলন দেখা যায় তাদের এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগে।

লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের পর তারা ড্রেসিংরুমে রেখে যান হাতে লেখা একটি চিঠি। পরে সেটি প্রকাশ করে ইরান ফুটবল ফেডারেশন।


চিঠিতে লেখা ছিল, ইরানের চেতনা সবসময় জীবন্ত ও অটুট।

সঙ্গে ছিল সব দেশের মানুষের প্রতি শান্তি, সম্মান ও বন্ধুত্বের আহ্বান। খেলোয়াড়রা জানান, তারা সম্মানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেছেন এবং মর্যাদা নিয়েই এই শহর ছেড়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি লস অ্যাঞ্জেলেসে তাদের সমর্থন দেওয়া দর্শকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাজনৈতিক উত্তেজনা, ভ্রমণ দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তায় ঘেরা একটি বিশ্বকাপে এই ছোট্ট বার্তাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় মানবিক উদাহরণগুলোর একটি।

এর আগেও তিহুয়ানার স্থানীয় মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিল ইরান দল। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও শহরটি তাদের আপন করে নেওয়ায় ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন খেলোয়াড়রা। সেই সম্মান ও কৃতজ্ঞতার ধারাবাহিকতাই বজায় থাকে লস অ্যাঞ্জেলেসের বিদায়ী বার্তায়।

শেষ পর্যন্ত অন্য ম্যাচের ফলাফল ইরানের বিপক্ষে যাওয়ায় বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়ে যায়। অল্পের জন্য হাতছাড়া হয় নকআউট পর্বের টিকিট।

তবু বিদায়ের মুহূর্তে জয়-পরাজয়ের হিসাবকে ছাপিয়ে যায় একটি হাতে লেখা চিঠি। যেখানে ফুটবলের ভাষা হয়ে ওঠে শান্তি, সম্মান ও মানবতার বার্তা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বড় পর্দায় বিশ্বকাপ দেখার স্থানগুলোতে নজরদারি চালাবে ডিএমপি

1

চাঁদ দেখার যে অভিজ্ঞতা জানালেন আর্টেমিস-২ নভোচারীরা

2

কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় আবদুস সাদেক আর নেই

3

আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে রেফারির প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিখুঁত ছিল

4

আমি একটা নিরীহ বিষ, লেজে পা দিলে যা হওয়ার তাই হবে: পরীমণি কা

5

মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে চায় ইরান

6

বাংলাদেশ-ভারত ফাইনালে নজরে যেসব তারকা ফুটবলার

7

কাতার নয়, অন্য কোনো দেশেও যেতে রাজি নন শেখ হাসিনা

8

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক আইনমন্ত্রীর ২৫ বছরের কারাদণ্ড

9

‘ইয়ামাল একাই বিশ্বকাপ জেতাতে পারে’—স্পেনের প্রশংসায় ভিনিসিয়ু

10

বাবার মৃত্যুশোকে পেনাল্টিতে শট নেননি লুকাকু

11

মাত্র ২০ মিনিটে ৭ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল দুবাই

12

বিশ্বকাপ ২০২৬ ভাঙতে পারে সব দর্শক রেকর্ড

13

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ব্যাখ্যা দিলেন পরিবহনমন্ত্রী

14

স্পেনে বৈধতার সুযোগ পাচ্ছেন ৫ লাখ অভিবাসী

15

ফ্রান্সের হাতে আর্জেন্টিনা-মিশরের বাঁশি

16

ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারবে না: ট্রাম্প

17

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যে শালীনতা পাই না : এ্যানি

18

মামুনুল হকের সঙ্গে ইরানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

19

ইতালিতে ভাই হত্যা, নেপথ্যে দুই স্ত্রীর চক্রান্ত

20