সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রথম উচ্চপর্যায়ের কমিটি বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। দুই পক্ষ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে রোডম্যাপ তৈরিতে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।
সোমবার বুর্গেনস্টকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে ইতিবাচক ও গঠনমূলক বলে অভিহিত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তার মতে, দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার পর এই আলোচনা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের আওতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে শুধু রোডম্যাপ তৈরির সিদ্ধান্তই নয়, রাজনৈতিক পর্যায়ে বিষয়টি তদারকির জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন এবং পরবর্তী প্রযুক্তিগত আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়েও একমত হয়েছে দুই পক্ষ।
আলোচনার ইতিবাচক অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে শাহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অব্যাহত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সংকট সমাধানের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর ইরানকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা ও সমর্থন দেওয়ার জন্য বিভিন্ন বন্ধুপ্রতিম ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
বিশেষভাবে আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় কাতারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শাহবাজ শরিফ। পাশাপাশি সফলভাবে বৈঠকের আয়োজন করায় সুইজারল্যান্ড সরকারকেও ধন্যবাদ জানানো হয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, একটি শান্তিপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ এগিয়ে নিতে তার দেশ আন্তরিক ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।
সব মিলিয়ে, সুইজারল্যান্ডের এই বৈঠক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং আগামী ৬০ দিনের কূটনৈতিক অগ্রগতি এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য করুন