অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ১০:২১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কোয়ার্টার ফাইনালে না উঠলে পরেরবারই বিশ্বকাপ জেতে ব্রাজিল, ইতিহাস বলছে

ছবি: সংগৃহীত



২০২৬ বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকেই বিদায়,। ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো তারা কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠতে পারেনি।

তবে ইতিহাস বলছে, এমন ব্যর্থতার পরই ঘুরে দাঁড়ানোর নজির রয়েছে সেলেসাওদের। ১৯৬৬ সালে গ্রুপ পর্বে বিদায়ের চার বছর পর ১৯৭০ সালে এবং ১৯৯০ সালে শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের চার বছর পর ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। তাই প্রশ্ন উঠছে-২০৩০ সালে কি আবারও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি সম্ভব?

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলের অতীতের দুই সফল প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে ২০২৬ সালের ব্যর্থতার একটি বড় মিল রয়েছে-দলের ভেতরে অস্থিরতা এবং ফুটবল ফেডারেশন (সিবিএফ)-এর সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা।

১৯৬৬-এর ব্যর্থতা থেকে ১৯৭০ বিশ্বকাপে সাফল্য
১৯৬৬ বিশ্বকাপে টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। দলের প্রস্তুতি ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল। ৪৬ জন ফুটবলারকে চারটি ভিন্ন রঙের জার্সিতে ভাগ করে অনুশীলন করানো হয়েছিল, শারীরিক প্রস্তুতির দায়িত্বে ছিলেন একজন জুডো প্রশিক্ষক, আর অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ও ছিল না।

সাংবাদিক ও গবেষক মাউরো বেটিংয়ের মতে, ১৯৬৬ সালের সেই প্রস্তুতি ছিল ব্রাজিলের ইতিহাসের অন্যতম বাজে প্রস্তুতি।

এরপর আসে বড় পরিবর্তন। কোচ পরিবর্তন, নতুন ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তি এবং ১২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে পরিকল্পিত শারীরিক প্রস্তুতি-এসবের ফলেই ১৯৭০ সালে ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল গড়ে ওঠে। যদিও ১৯৬৬ দলের ছয়জন খেলোয়াড়-পেলে, জাইরজিনহো, জারসন, তোস্তাও, ব্রিতো ও এদু দলে থেকে যান, তাদের সঙ্গে যোগ দেন কার্লোস আলবার্তো, ক্লোদোয়ালদো ও রিভেলিনোর মতো নতুন তারকারা।

১৯৯০-এর শিক্ষা, ১৯৯৪ সালে শিরোপা
১৯৯০ বিশ্বকাপে ব্রাজিল শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেয়। মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল ড্রেসিংরুমের অস্থিরতা।

সিবিএফ খেলোয়াড়দের জানিয়েছিল যে স্পন্সর বোনাস ছিল ১০ লাখ ডলার, পরে জানা যায় প্রকৃত অঙ্ক ছিল দ্বিগুণ। এই ঘটনা নিয়ে দলের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। পাশাপাশি কোচ সেবাস্তিয়াও লাজারোনি ম্যাচ চলাকালেই খেলোয়াড়দের কাছে জানতে চান দল তিন ডিফেন্ডার নাকি তিন ফরোয়ার্ড নিয়ে খেলবে—যা দলীয় নেতৃত্বে দুর্বলতার প্রমাণ হিসেবে দেখা হয়।

১৯৯০ ও ১৯৯৪-দুই বিশ্বকাপেই খেলা ফুলব্যাক জর্জিনহো বলেন, সেই ব্যর্থতা থেকেই শিক্ষা নিয়েছিল ব্রাজিল।

১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে বোনাস সমানভাবে পুরো ডেলিগেশনের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। পরিবার, বন্ধু, এজেন্ট কিংবা সাংবাদিক-কাউকেই দলের ক্যাম্পে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পুরো দল এক লক্ষ্যেই কাজ করেছে-বিশ্বকাপ জয়।

এই পরিবর্তনের ফলেই ব্রাজিল চতুর্থবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৯০ সালের দলের ১০ জন খেলোয়াড়ই ১৯৯৪ সালের শিরোপাজয়ী দলে ছিলেন।

অতীত প্রমাণ করেছে, ব্যর্থতা থেকেই ব্রাজিলের সেরা দলগুলোর জন্ম হয়েছে। তাই ২০২৬ সালের হতাশা যদি সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা যায়, তবে ২০৩০ বিশ্বকাপে ষষ্ঠ শিরোপার স্বপ্ন মোটেও অবাস্তব নয়।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইসরায়েলি বিমান হামলায় বিধ্বস্ত জনপদ, বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

1

১৪ বছর পর রিয়াল মাদ্রিদকে হারাল বায়ার্ন মিউনিখ

2

কাতার ও ইসরায়েলকে ৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

3

হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড দাবি করায় ট্রাম্পকে মানসিক রো

4

মে মাসের মধ্যেই হাম নিয়ন্ত্রণে আসবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশাবা

5

‘সবকিছুই তার ইচ্ছের ওপর’, ২০৩০ বিশ্বকাপে মেসির খেলা প্রসঙ্গে

6

প্রথম ম্যাচে স্পেনের প্রতিপক্ষ কেপ ভের্দে

7

ব্রণ নিয়ে বিড়ম্বনা জেনে নিন কারণ ও সমাধান

8

নাহিদ ইসলাম নৈতিক অপরাধ করেছেন: রাশেদ খাঁন

9

ইরান সংঘাতে কমছে মার্কিন অস্ত্রভান্ডার

10

ফেসবুক পোস্টে যেসব অভিযোগ জানালেন আমির হামজা

11

আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচে ‘ইচ্ছাকৃত পক্ষপাতের কোনো প্রমাণ পাইন

12

এক দশকে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী আসছে

13

ইডেন কলেজ-ঢাকা মেডিকেলসহ বিলুপ্ত হলো ছাত্রদলের যেসব কমিটি

14

মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপ্পে

15

হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় চ্যালেঞ্জ ইরানের মশা নৌবহর

16

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী

17

মেসির ছেলে থিয়েগোতেই ২০৩০ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্

18

ফাইনালের আগে মেসিকে নিয়ে শাকিরার আবেগঘন বার্তা

19

স্পেনের শিরোপার আড়ালে বিশ্বকাপে ঘটেছে আরও বড় ইতিহাস

20