বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। বিয়ে নিবন্ধনের সময় প্রচলিত কাগজের জন্মসনদের পরিবর্তে অনলাইন বা ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন রেকর্ড বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭’ সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী Abu Zafar Mohammad Zahid Hossain।
সোমবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মন্ত্রী জানান, নতুন সংশোধনী প্রণয়নের কাজ চলছে এবং এতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে UNICEF ও UNFPA। সংশোধিত আইনের মাধ্যমে বিদ্যমান আইনের কিছু দুর্বলতা ও অপব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে জাল বা ভুয়া জন্মসনদ ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ের প্রকৃত বয়স গোপন করা হয়। ফলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আইন প্রয়োগ জটিল হয়ে পড়ে। ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন রেকর্ড বাধ্যতামূলক করা হলে অনলাইনে তথ্য যাচাই সহজ হবে এবং জালিয়াতির সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বিদ্যমান আইনের ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ সংক্রান্ত বিধানগুলোর অপব্যবহার বন্ধ করার ওপর। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অনেক ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা নতুন আইনের মাধ্যমে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন ছাড়াই অনেক বিয়ে সম্পন্ন হওয়ায় মাঠপর্যায়ে নজরদারি ও আইন প্রয়োগে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। তাই শুধু আইন সংশোধন করলেই হবে না, বাল্যবিবাহ নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগও জরুরি।
সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধনকে বাধ্যতামূলক করা হলে বিয়ে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে, বয়স যাচাই আরও নির্ভুল হবে এবং দেশে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন