প্রকাশ :
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ১১:৩৩ এএম |অনলাইন সংস্করণ
সংগৃহীত ছবি
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয়। ব্রাজিল যেখানে ষষ্ঠ স্থানে, মরক্কো রয়েছে ঠিক তাদের পরেই। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে র্যাঙ্কিংয়ের চেয়ে মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা বলে, আর নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেটিই প্রমাণ করেছে মরক্কো। ১-১ গোলের ড্রয়ে শেষ হওয়া ম্যাচে আফ্রিকার দলটি একাধিক সময় ব্রাজিলের চেয়ে বেশি সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দিয়েছে।
বিশ্বকাপে নামার আগে স্বাভাবিকভাবেই ব্রাজিলকে ফেভারিট ধরা হয়েছিল। কিন্তু ম্যাচের শুরু থেকেই মরক্কো তাদের উচ্চ প্রেসিং, দ্রুত পাসিং এবং শক্তিশালী মাঝমাঠের মাধ্যমে সেলেসাওদের চাপে ফেলে। নেইমারবিহীন ব্রাজিলের আক্রমণভাগে সৃজনশীলতার অভাব স্পষ্ট ছিল, আর মাঝমাঠও প্রত্যাশিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।
প্রথমার্ধে মরক্কোই ছিল বেশি কার্যকর দল। বলের জন্য লড়াই, আক্রমণ গঠন এবং রক্ষণভাগের শৃঙ্খলায় তারা ব্রাজিলকে পিছনে ফেলে দেয়। বিশেষ করে ব্রাজিলের ডিফেন্সিভ দুর্বলতাগুলো কাজে লাগিয়ে তারা একাধিক বিপজ্জনক আক্রমণ তৈরি করে। সেই ধারাবাহিকতার ফল হিসেবেই আসে ইসমাইল সাইবারির গোল।
অন্যদিকে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ছাড়া খুব কম খেলোয়াড়ই নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিতে পেরেছেন। ইগর থিয়াগো পরিশ্রম করলেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। রাফিনিয়াও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারায়েস কিছুটা ছন্দ এনে দিলেও কাসেমিরো ও লুকাস পাকেতার কাছ থেকে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স পাওয়া যায়নি।
ম্যাচের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুহূর্ত আসে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পা থেকে। ব্রুনো গিমারায়েসের পাস ধরে অসাধারণ ড্রিবলিং ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ে তিনি ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে গড়া এই গোলই প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করে। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল ভিনিসিয়ুসের দশম গোল।
বিরতির পর কোচ কার্লো আনচেলত্তি একাধিক পরিবর্তন এনে ম্যাচের চিত্র বদলানোর চেষ্টা করেন। ফাবিনিও, দানিলো, মাতেউস কুনিয়া ও লুইস এনরিকের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মাঠে নামানো হলে ব্রাজিল কিছুটা স্থিরতা ফিরে পায়। মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ বাড়ে এবং আক্রমণেও গতি আসে। তবে কাঙ্ক্ষিত জয়ের গোল আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ম্যাচটি আনচেলত্তির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে থাকল। তার কৌশলগত পরিকল্পনার সব অংশ সফল হয়নি। বিশেষ করে ইগর থিয়াগোকে কেন্দ্র করে যে আক্রমণভিত্তিক পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল, তা মাঠে প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। ফলে বিশ্বকাপের শুরুতেই ব্রাজিলের বেশ কিছু দুর্বলতা প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
তবে ইতিবাচক দিক হলো, গ্রুপ পর্বে সামনে অপেক্ষাকৃত সহজ দুটি ম্যাচ রয়েছে ব্রাজিলের। নকআউট পর্বের আগে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার সুযোগও থাকবে। কিন্তু মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই ব্রাজিল এখনো নিজেদের সেরা রূপে পৌঁছাতে পারেনি। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নিয়ে যে অপ্রতিরোধ্যতার ধারণা ছিল, অন্তত এই ম্যাচে তার খুব কমই দেখা গেছে।