প্রকাশ :
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম |অনলাইন সংস্করণ
ফাইল ছবি।
রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টি হলেই যেন নগরজীবনের গতি থেমে যায়। প্রধান সড়কগুলোতে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট, কোথাও কোথাও দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। ফলে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু আগাম প্রস্তুতি ও সচেতনতা থাকলে বৃষ্টির দিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
বৃষ্টির দিনে ঢাকার সড়কে যানবাহনের গতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কমে যায়। কোথাও পানি জমে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় যানজটে। তাই জরুরি কাজে বের হওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় হাতে রাখা প্রয়োজন। এতে অযথা মানসিক চাপও কম থাকে।
বর্তমানে বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ ট্রাফিক আপডেট পাওয়া যায়। কোথায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে বা কোন সড়কে যানজট বেশি—সেসব তথ্য আগে থেকেই জেনে নিলে বিকল্প রাস্তা বেছে নেওয়া সহজ হয়। পাশাপাশি আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে বের হলে হঠাৎ ভারী বৃষ্টিতে পড়ার ঝুঁকিও কমে।
ঢাকার কিছু এলাকায় অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। বিশেষ করে মালিবাগ, শান্তিনগর, কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর, মিরপুরের কিছু অংশ এবং পুরান ঢাকার বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা বেশি দেখা যায়। এসব এলাকা এড়িয়ে চলতে পারলে সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমানো সম্ভব।
বৃষ্টির সময় বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় এবং অতিরিক্ত যাত্রীচাপও তৈরি হয়। এ কারণে অনেকেই মেট্রোরেল বা রাইড শেয়ারিং সেবা ব্যবহারকে তুলনামূলক নিরাপদ ও দ্রুত মনে করছেন। এতে যানজটে দীর্ঘসময় আটকে থাকার ঝুঁকিও কমে।
এছাড়া বৃষ্টির দিনে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সুরক্ষিত রাখাও জরুরি। ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগ বা প্লাস্টিক কভার ব্যবহার করলে হঠাৎ বৃষ্টিতে জিনিসপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। অনেকে ছোট পলিথিন বা জিপার ব্যাগ সঙ্গে রাখেন, যা প্রয়োজনের সময় কাজে আসে।
হঠাৎ বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখা উচিত। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য রেইনকোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভেজা সড়কে মোটরসাইকেল পিছলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারীদেরও বৃষ্টির আগে গাড়ির ওয়াইপার, ব্রেক ও হেডলাইট পরীক্ষা করে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ বৃষ্টির সময় দৃশ্যমানতা কমে যায় এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে। একইসঙ্গে টায়ারের অবস্থাও ভালো আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
গণপরিবহনে ওঠানামার সময়ও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ভেজা রাস্তা বা বাসের সিঁড়িতে পা পিছলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ও সাবধানে চলাচল করা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টির দিনে একটু সচেতনতা, আগাম পরিকল্পনা এবং পরিস্থিতি বুঝে চলার অভ্যাসই বড় ধরনের দুর্ভোগ কমাতে সহায়তা করতে পারে। নগরবাসীর নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক চলাচলের জন্য এসব বিষয় মেনে চলা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
মেসির বিশ্বরেকর্ডে ক্লোসের হৃদয়ছোঁয়া বার্তা
1
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩: ডা. শফিকুর রহমানের শুভেচ্ছা
2
হরমুজে উত্তেজনা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র অচল অবস্থা
3
পরিসংখ্যান বলছে বিশ্বকাপ ইতিহাসে মেসিই সর্বকালের সেরা
4
মেসিই সর্বকালের সেরা, সবচেয়ে বিপজ্জনক: হ্যারি কেইন
5
ডিপিএলে ক্রিকেটারদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার দেবে বিসিবি:
6
ইসরায়েলকে মেনে নিলেই সৌদি পাবে মার্কিন পারমাণবিক প্রযুক্তি
7
ইরানে শান্তিচুক্তি বিরোধী বিক্ষোভ, আরাগচির বিরুদ্ধে স্লোগান
8
ভূমিকম্পের সময় পড়ার দোয়া ও আমল
9
এমবাপ্পের মনটাই খারাপ করে দিলেন মেসি
10
দাদির ভিডিও বার্তা দেখে কাঁদলেন ভিনিসিয়ুস
11
ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় কলম্বিয়া, পেল সুইজারল্যান্ডকে
12
জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেতা সেলিম কুমার আর নেই
13
হাম ও উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
14
দেশে খাদ্যশস্যের মজুত ২০ লাখ টন ছাড়াল
15
ইউনূসের আমলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিধি-নিষেধ ছিল
16
আজ প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা পদক হস্তান্তর করবেন
17
স্ত্রীসহ সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুলের সম্পদ বিবরণী দা
18
আছিয়া-রামিসা হত্যা মামলার শুনানি দ্রুত চাইলেন অ্যাটর্নি জেনা
19
শত্রুদের জন্য ‘চমক’ অপেক্ষা করছে, হুঁশিয়ারি ইরানের