ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ১১:০৪ এএম
অনলাইন সংস্করণ

তারেক রহমানকে সিলিংয়ে ঝুলিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত নাম তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থানের পর দেশের রাজনীতিতে তার প্রত্যাবর্তন ও উত্থান নিয়ে জনমনে কৌতূহলের শেষ নেই। বিশেষ করে ১/১১-এর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০০৭ সালের ৭ মার্চ রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় অবস্থিত বাসভবন থেকে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা বা অভিযোগ ছাড়াই তাকে আটক করে ডিজিএফআই পরিচালিত জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কর্নেল (অব.) ইমরান নামের এক কর্মকর্তা একজন রানার ও একজন ড্রাইভারকে সঙ্গে নিয়ে মইনুল রোডের বাসভবনে যান। তখন পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছিল।

সূত্র জানায়, কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর তারেক রহমান বাসা থেকে বের হলে তাকে একটি গাড়িতে তোলা হয়। কিছু দূর যাওয়ার পর তার মুখ কালো কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়। তিনি গাড়ির জানালা খোলার অনুরোধ করলেও নিরাপত্তার অজুহাতে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।

পরবর্তীতে তাকে সিটিআইবির জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে নেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে তৎকালীন কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করেন। অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, কয়েকদিন ধরে তাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় রাখা হয় এবং শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

অভিযোগ রয়েছে, নির্যাতনের এক পর্যায়ে তাকে হাত বাঁধা অবস্থায় সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে অনুসন্ধানে বলা হয়, নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় রাখার নির্দেশ ছিল। পরে তিনি সিলিং থেকে পড়ে গিয়ে কোমরে গুরুতর আঘাত পান বলে দাবি করা হয়েছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে আবারও তাকে জেআইসিতে এনে টানা কয়েকদিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই সময় একটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। ওই জবানবন্দিতে নিজের ভুলের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

একাধিক সাবেক সেনা কর্মকর্তার নাম এই অনুসন্ধানে এসেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন দাবি করেছেন, তারা সরাসরি নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তবে জিজ্ঞাসাবাদ ও নির্যাতনের সময় বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতির বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে।

আরও জানা যায়, ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে তারেক রহমানের নানির মৃত্যুর পর তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। সে সময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি স্পষ্ট ছিল বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় ধরে তাকে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান দেশত্যাগ করেন। অভিযোগ রয়েছে, একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেওয়ার পর তাকে বিদেশে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৪২টি সামরিক বিমান ধ্বংস হওয়ার দাব

1

ফাইনালের আগে মেসিকে নিয়ে শাকিরার আবেগঘন বার্তা

2

খাদ্য নিরাপত্তায় বহুমুখী সুরক্ষাবলয়

3

ঋতুপর্ণার সেই গোলের নাম কেন অলিম্পিক গোল

4

আলজেরিয়া বাধা পেরিয়ে জয় দিয়ে শুরু করতে চায় আর্জেন্টিনা

5

আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস

6

আর্জেন্টিনার ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক দল প্রস্তুত

7

বিটিভিতে বিনা খরচে বিশ্বকাপ সম্প্রচার

8

এইচএসসিতে নকল পেলে প্রতিষ্ঠানপ্রধানও শাস্তির মুখে

9

৯৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়লেন গিলবার্তো মোরা

10

ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের নেপথ্যে যে কারণ

11

মেসির হ্যাটট্রিক, মেসির রেকর্ড, মেসির চোখে জল

12

ছাত্রলীগের ৭ নেতাকর্মীর লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন : পুলিশ

13

সময় চাওয়ায় স্পিকার বললেন, বাকি চাহিয়া লজ্জা দেবেন না

14

‘আমি ভয়ও পাচ্ছি, কারণ ইসরায়েলিদের বিশ্বাস করি না’

15

মেসির দলে যোগ দিলেন ব্রাজিলের ক্যাসেমিরো

16

মেসিকে টপকে শীর্ষে বেলিংহাম

17

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইউএনএইচসিআর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আগু

18

ইবির বাসে মারধরকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর

19

চুক্তি না হলে ইরানে ফের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

20