রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার-এর করা জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট।
রোববার বিচারপতি মোহাম্মদ আলী এবং মো. সাইফুল ইসলাম-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সংক্রান্ত আদেশ দেন। আদালতের কার্যতালিকায় সোহেল রানার জেল আপিল ৩৪ নম্বরে এবং স্বপ্না আক্তারের আবেদন ৩৫ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে শুনানি শেষে আবেদন দুটি গ্রহণ করা হয়।
এর আগে মামলার মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় ডেথ রেফারেন্সের নথিপত্রও হাইকোর্টে পৌঁছায়। ফলে বিচারিক আদালতের দেওয়া রায়ের আইনগত পর্যালোচনার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।
আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ কার্যকর হবে। তবে আইন অনুযায়ী এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
রায়ের পাশাপাশি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, আদায় করা অর্থ ভুক্তভোগী শিশুর আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রদান করতে হবে। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করে তা বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২৮ ধারার বিধান অনুযায়ী আসামিরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করার অধিকার রাখেন। সেই ধারাবাহিকতায় দাখিল করা জেল আপিল এখন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।
আইনজীবীদের মতে, জেল আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বহাল, সংশোধন বা বাতিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। ফলে মামলার পরবর্তী ধাপের দিকে এখন নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট সবার।
মন্তব্য করুন