অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ দলিল প্রকাশ, কী আছে এতে

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ মঙ্গলবার তুরস্কের সংসদে জমা দিয়েছে দেশটির সরকার। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ পরিস্থিতিতে আক্রান্ত দেশকে সামরিক সক্ষমতাসহ পারস্পরিক সহায়তার বিভিন্ন উপায় কাজে লাগিয়ে সহযোগিতা করবে অন্য সদস্যরা।

গত আগস্টে স্বাক্ষরিত এ চুক্তির মাধ্যমে তিন দেশের মধ্যে একটি নতুন প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ন্যাটো জোটের চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো এতে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই চুক্তিটির পূর্ণাঙ্গ পাঠ সংগ্রহ করেছে। এতে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলকে সরাসরি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে কোনো সদস্য দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব কিংবা ভৌগোলিক অখণ্ডতা সশস্ত্র হামলার মুখে পড়লে অন্য দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করতে বলা হয়েছে।

চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে সদস্য দেশগুলোর স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়ে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। কোনো দেশের এসব বিষয় হুমকি বা বিপদের মুখে পড়লে তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব উপায় ব্যবহারের অঙ্গীকার করেছে পক্ষগুলো।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সদস্য দেশের ওপর বাইরে থেকে সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অন্য কোনো দেশ বা একাধিক দেশের সামরিক আগ্রাসনের শিকার হলে আক্রান্ত দেশকে অবিলম্বে সহায়তা দেবে অন্য সদস্যরা।

তবে সহায়তার ধরন ও পরিধি নির্ধারণ করা হবে পরিস্থিতি এবং প্রয়োজনের মূল্যায়নের ভিত্তিতে। সদস্য দেশগুলো নিজেদের বিদ্যমান সম্পদ ও সক্ষমতার সীমার মধ্যে থেকে সহযোগিতা করবে। এর মধ্যে সামরিক উপায় ও সক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করাও চুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রতিরক্ষা শিল্প ও গোয়েন্দা সহযোগিতা

১৬টি অনুচ্ছেদে গঠিত এ চুক্তিতে শুধু পারস্পরিক সামরিক সহায়তার অঙ্গীকারই নয়, প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন, সশস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশ প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বাড়াবে। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সামরিক সরঞ্জাম যৌথভাবে উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পের কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ব্যবস্থাও থাকবে।

যুদ্ধ ও শান্তিকাল—উভয় সময়েই দেশগুলো সামরিক কর্মকর্তাদের পারস্পরিক বিনিময়, যৌথ প্রশিক্ষণ এবং মহড়ার আয়োজন করতে পারবে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য তিন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও কার্যকর সহযোগিতা বাড়ানো।

চুক্তিতে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ জোরদারের কথাও বলা হয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, এমন সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় তিন দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

এ ছাড়া পারস্পরিক সম্মত নিরাপদ মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে সদস্য দেশগুলো। এ ক্ষেত্রে তথ্যের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিগত উপাত্তের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

চুক্তিতে অস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানি, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। শান্তিকাল, যুদ্ধকাল কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে এসব সহায়তা দেওয়া যাবে। তবে তা নির্ভর করবে সরবরাহের প্রাপ্যতা ও সামঞ্জস্যের ওপর।

গঠিত হবে কৌশলগত প্রতিরক্ষা কমিটি

চুক্তির অষ্টম অনুচ্ছেদে ‘কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এতে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানেরা থাকবেন।

কমিটির দায়িত্ব হবে যৌথ প্রতিরক্ষার কৌশলগত দিকনির্দেশনা দেওয়া, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানো এবং চুক্তি বাস্তবায়নের পথে তৈরি হওয়া প্রতিবন্ধকতা দূর করা।

কমিটি বছরে দুবার বৈঠক করবে। পালাক্রমে তিন দেশের একেকটি দেশ বৈঠকের আয়োজন করবে। প্রয়োজন মনে করলে দেশগুলোর নেতারা বছরে একবার বৈঠকে বসতে পারবেন।

মূল তিন দেশের সর্বসম্মতির ভিত্তিতে এ চুক্তিতে অন্য দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম ও নীতিমালা নির্ধারণের ক্ষমতাও থাকবে কমিটির।

চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য সৌদি আরবে একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর মহাসচিব তিন দেশের মধ্য থেকে পালাক্রমে তিন বছরের জন্য নিয়োগ পাবেন। প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তানের নাগরিক।

১০ বছর পর প্রত্যাহারের সুযোগ

চুক্তিতে মেয়াদ শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ রাখা হয়নি। অর্থাৎ, এটি অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে।

তবে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর প্রথম ১০ বছর কোনো সদস্যদেশ এটি থেকে সরে যেতে পারবে না। ১০ বছর পার হলে যেকোনো দেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক মাধ্যমে অন্য সদস্যদেশগুলোকে অন্তত তিন মাস আগে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

চুক্তির আওতায় পাওয়া গোপনীয় তথ্য ও নথির সুরক্ষা প্রত্যাহার বা চুক্তির অবসানের পরও বজায় রাখতে হবে। একইভাবে, চুক্তি শেষ হওয়ার আগে সম্মত হওয়া চলমান কার্যক্রম ও প্রকল্পের ওপর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে না।

চুক্তির ব্যাখ্যা বা বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে সদস্য দেশগুলো আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে তা সমাধান করবে। এতে সংশোধন আনতে হলে মূল তিন দেশের মধ্যে আলোচনা ও সর্বসম্মতি প্রয়োজন হবে।

তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের নিজ নিজ অনুমোদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর চুক্তিটি কার্যকর হবে। কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির সচিবালয়ে অনুমোদনের সর্বশেষ দলিল জমা দেওয়ার দিন থেকে এটি কার্যকর বলে গণ্য হবে।

তুর্কি, আরবি ও ইংরেজি ভাষায় চুক্তিটির তিনটি মূল কপি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিনটি ভাষার পাঠ সমানভাবে প্রামাণ্য বলে বিবেচিত হলেও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য দেখা দিলে ইংরেজি পাঠকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তেলের দাম কমালো চীন

1

বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনায় ইরানের কোচ ও

2

অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি শান্তর

3

২০২৬ বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামে পানির বোতল নিষিদ্ধ করল ফিফা

4

পিরোজপুরের নেছারাবাদে অগ্নিকাণ্ডে ১৭ দোকান পুড়ে ছাই

5

পরকীয়া নিয়ে খোঁচা দেওয়ায় স্ত্রীর কান ছিঁড়ে নিলেন স্বামী!

6

খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মাণ হচ্ছে আধুনিক সামুদ্রিক গবেষণা জাহাজ

7

পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, ভোট শুরু ২১ জানুয়ারি

8

টাঙ্গাইলে কৃষক সমাবেশে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

9

অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে ১০ শতাংশ দিয়েন: আসিফ মাহমু

10

তেজগাঁও বিভাগে ডিএমপির অভিযানে গ্রেফতার ৫২

11

খালি পেটে যে অভ্যাসগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো

12

এনসিপির ‘নারীশক্তি’র নেতৃত্বে দিবেন যারা

13

জোড়া গোল করে সমালোচকদের জবাব দিলেন নেইমার

14

সুন্দরবনে ফাঁদসহ ৪ হরিণ শিকারী আটক

15

ঘরেই বানান সুস্বাদু কাঁঠালের হালুয়া

16

বিশ্বকাপে প্রথম মা-ছেলে জুটি

17

উচ্চ মাধ্যমিকে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত

18

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে সম্মত ইউরোপীয় ইউনিয়

19

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে : ইরানের পররাষ্ট

20