কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল এবং তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় প্রেসিডেন্টের পরিবারের সদস্য, কাস্ত্রো পরিবারের কয়েকজন প্রতিনিধি এবং কিউবার সামরিক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেলের স্ত্রী লিস কুয়েস্তা পেরাজা, কাস্ত্রো পরিবারের দুই সদস্য এবং কিউবার বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয়সহ মোট কয়েকজন ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি কিউবার সরকার।
২০১৮ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর কাছ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল। রাউল কাস্ত্রো ছিলেন কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তিনি দেশটির কমিউনিস্ট সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কিউবার বর্তমান নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়াতে ওয়াশিংটনের ধারাবাহিক কৌশলের অংশ হিসেবেই নতুন এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এমন সময় এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবাকে আরও কার্যকর ও সুশাসিত রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাওয়ার কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি নিষেধাজ্ঞাকে ‘ঘৃণ্য’ বলে উল্লেখ করেন এবং এটিকে কিউবার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপের নতুন উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দেন।
রদ্রিগেজ বলেন, দুই দেশের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে নেওয়া যেকোনো পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে। তার মতে, নিষেধাজ্ঞা কিউবার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবে না।
উল্লেখ্য, গত মাসেও কিউবার যোগাযোগমন্ত্রী, কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা এবং দেশটির প্রধান গোয়েন্দা সংস্থাসহ ১১ জন কিউবান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ১৯৯৬ সালে কিউবান নির্বাসিতদের একটি বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধেও অভিযোগ এনেছে ওয়াশিংটন।
সাম্প্রতিক এই নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও তীব্র করে তুলবে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন