ফেসবুকে পরিচয়, এরপর প্রেমের সম্পর্ক। সেই সম্পর্ককে বিয়েতে রূপ দিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশের জয়পুরহাটে এসেছেন দুই সহোদর। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের জমিনপুর গ্রামে। তাঁদের আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে জমিনপুর গ্রামের সানোয়ার হোসেনের বাড়িতে গিয়ে ওই দুই ভারতীয় যুবকের দেখা পাওয়া যায়। পাসপোর্ট ও ভিসার তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুর এলাকার বাসিন্দা ফারুক চাপরাশি ও মুর্শিদ চাপরাশি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিনপুর গ্রামের সানোয়ার হোসেনের মেয়ে পূর্ণিমার সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় ফারুক চাপরাশির। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সেই সম্পর্ককে বিয়েতে রূপ দিতে গত বৃহস্পতিবার ভারতের কলকাতা থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে বাংলাদেশে আসেন ফারুক ও তাঁর ভাই মুর্শিদ। বর্তমানে তাঁরা পূর্ণিমার বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
দুই ভারতীয় যুবকের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁদের দেখতে স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়। তবে পূর্ণিমা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ওই দুই যুবকের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয়দের কথা বলতে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
পূর্ণিমার বাবা সানোয়ার হোসেন জানান, ফারুক ও তাঁর বড় ভাই পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বেনাপোল হয়ে তাঁর বাড়িতে এসেছেন। তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকেও ভিসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সানোয়ার হোসেন বলেন, ভিসা পেলে তাঁরা ভারতে গিয়ে ফারুকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। তখন বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদেরও জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে গেলে সাংবাদিকদের হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পূর্ণিমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় আলোচনা চললেও বিয়ের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন