পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা মমতা ব্যানার্জী নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনের পরপরই বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দলটি কার্যত তিনটি পৃথক গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাঙনের পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ কাজ করেছে—দলের নির্বাচননির্ভর রাজনীতি, বিজেপির কৌশলগত চাপ এবং অভিষেক ব্যানার্জীর নেতৃত্বশৈলীকে ঘিরে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ।
প্রথমত, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতি মূলত নির্বাচনকেন্দ্রিক ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতায় টিকে থাকা এবং ভোটে জয়কে কেন্দ্র করেই দলটির কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় আদর্শিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। নির্বাচনে পরাজয়ের পর সেই দুর্বল কাঠামো দ্রুত ভেঙে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, নির্বাচনী ফলাফলের পর রাজনৈতিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী শক্তি হিসেবে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দলটির ভেতরে বিভাজন বাড়াতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। কলকাতা ও দিল্লিতে আলাদা আলাদা গোষ্ঠী গড়ে ওঠার পেছনে এই কৌশলগত প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃতীয় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব সংকট। বিশেষ করে অভিষেক ব্যানার্জীর নেতৃত্বশৈলী নিয়ে দলের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। করপোরেট ধাঁচের সংগঠন পরিচালনা, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব—এই বিষয়গুলো বিদ্রোহী মনোভাবকে আরও তীব্র করেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত।
এর পাশাপাশি দলীয় মনোনয়ন, অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অসন্তোষও ভাঙনের গতিকে ত্বরান্বিত করেছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এক সময়ের শক্তিশালী এই রাজনৈতিক সংগঠন এখন বড় ধরনের পুনর্গঠন ও অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন