অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের একটি বহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ফ্রান্সের ৭৮ বছর বয়সী মেয়র বার্নার্ড বোদুকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ফিলিস্তিনি কৃষকদের জলপাই সংগ্রহ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে এ হামলার শিকার হন তিনি।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় ইউরোপের কয়েকটি দেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলীয় শহর অউলনোয়া-এমেরির মেয়র বার্নার্ড বোদুর ভাষ্য অনুযায়ী, মুখোশধারী বসতি স্থাপনকারীরা ফ্রান্সকে লক্ষ্য করে অপমানজনক মন্তব্য করেন। এরপর তাঁকে লাথি মারার পাশাপাশি লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। হামলার পর তাঁকে একটি গাড়ির পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয়নি বলে জানান তিনি।
এএফপিকে বোদু বলেন, বসতি স্থাপনকারীরা এভাবে আচরণ করতে পারলে এর পেছনে ইসরায়েলি সরকারের একধরনের প্রশ্রয় রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, পশ্চিম তীরে কী ঘটছে, তা বিশ্বের মানুষের জানা প্রয়োজন। নিজ দেশে ফিরে গেলে তিনি নিরাপদে থাকবেন, কিন্তু এই অঞ্চলে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদেরই সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ফরাসি ও বেলজিয়ামের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের পাশাপাশি পোল্যান্ডের কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে ফিলিস্তিনি কৃষকদের সঙ্গে জলপাই সংগ্রহে অংশ নিয়েছিলেন বোদু। এ সময় তাঁর পরনে ছিল ফ্রান্সের জাতীয় পতাকার রঙের ফিতা।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলার অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো এক বিবৃতিতে ইসরায়েলকে অবিলম্বে অপরাধমূলক সহিংসতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ফরাসি মেয়রের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও একই ধরনের আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের ওপর হামলার ঘটনা কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ফরাসি মেয়রের ওপর হামলার মাত্র এক দিন আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর আলোকচিত্রী হেইডি লেভিনও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, হামলার ছবি ও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি আরও জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম তীরে উত্তেজনা বা নতুন কোনো সংকট দেখতে চান না।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি হামলাটিকে ‘মুখোশধারী কাপুরুষদের সংঘটিত ঘৃণ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে হামলাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা এবং তাঁদের কারাদণ্ড দেওয়ার জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পশ্চিম তীরে ধারাবাহিক হামলার অভিযোগের মধ্যে ফরাসি মেয়র ও মার্কিন আলোকচিত্রী আহত হওয়ার ঘটনা নতুন করে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সহিংসতা বন্ধ এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও জোরালো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন